দৈর্ঘ্য তার মাত্র ০.৫ ইঞ্চি। কতটা ছোট তা আন্দাজ করা যাচ্ছে নিশ্চিতভাবেই। আর তারমধ্যেই সংহত হল মহাতেজ। যে তেজে ধ্বংস হয়ে যায় পুরো সৃষ্টি। যেমন, ক্ষুদ্রাদিক্ষুদ্র পরমাণুর মধ্যে সঞ্চিত থাকে প্রবল শক্তি, অনেকটা সেইরকমই। আকারে ক্ষুদ্র, কিন্তু তেজে তার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার কেউ নেই। শুক্রবার মহাশিবরাত্রি। গোটা দেশ জুড়ে মহা সাড়ম্বরে হিন্দুদের এই পূণ্য তিথি পালিত হচ্ছে। আর এই পূণ্য লগ্নে ওড়িশার বিখ্যাত মিনিয়েচর আর্ট বা ক্ষুদ্র ভাস্কর্যশিল্পী এল ঈশ্বর রাও গড়লেন দেবাদিদেব মহাদেবের এক অনন্য মূর্তি।

একটি সাধারণ পেনসিলের ডগায় তিনি এই অনন্য শিবলিঙ্গটি তৈরি করেছেন। শিবলিঙ্গের আকার মাত্র ০.৫ ইঞ্চি। ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে খুরদা জেলার জাতনি গ্রামে থাকেন এল ঈশ্বর রাও। শুক্রবার সকালেই তিনি একটি সিসার পেনসিলের ডগা ধাতব রড দিয়ে ঘসে ঘসে এই ক্ষুদ্রাদিক্ষুদ্র শিবলিঙ্গটি তৈরি করেন। সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা না করা হলেও এটিকেই বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র শিবলিঙ্গ বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

বস্তুত , জাতনি গ্রামের এল ঈশ্বর রাও তাঁর অসাধারণ কাজের দৌলতে ভারতে এবং ভারতের বাইরেও মিনিয়েচর শিল্পে অতি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। এদিন সংবাদ সংস্থা এএনআই তাঁর তৈরি অতিক্ষুদ্র শিবলিঙ্গটির ছবি প্রকাশ করে। আর তারপরই সেই ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। অনেক শিবভক্তই ছবিটি শেয়ার করে বলেছেন, এমন দিনে এমন একটি কাজের ছবি শেয়ার করে নিতে পেরে তাঁরা অত্যন্ত খুশি।

আরও পড়ুন - মহা শিবরাত্রির দিন ভুল করেও এই কাজগুলি করবেন না , তাহলেই বড় বিপদ

আরও পড়ুন - দেশের নানা প্রান্তে মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে শিবরাত্রি, ছবিতে ছবিতে দেখুন মহাদেবের আরাধনা

আরও পড়ুন - শিবরাত্রির পুজো দিতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, তারকেশ্বরে মৃত্যু ৩ যুবকের

পেনসিলের শীষে শিবলিঙ্গ তৈরি করাটা আপাত দৃষ্টিতে বেশ সহজ মনে হতে পারে। কিন্তু ঈশ্বর রাও জানিয়েছেন, এই কাজটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। সবচেয়ে কঠিন ছিল একটি ছোট বোতলে চারটি নরম পাথর-কে সেট করা। তাতেই তাঁর ২দিন সময় লেগেছে। তিনি আরও বলেছেন যে এই কাজে যেমন ধৈর্য লাগে, তেমন প্রয়োজন প্রচুর অনুশীলনের।

এর আগেও ঈশ্বরা রাও-এর বিভিন্ন ক্ষুদ্র ভাষ্কর্য দারুণ প্রশংসা পেয়েছে। ২০১৮ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে একটি তেঁতুলের বীজ দিয়ে তিনি  ভারতীয় দলের সম্মানে একটি 'বিশ্বকাপ ট্রফি'র ক্ষুদ্র ভাস্কর্য তৈরি করেছিলেন। গত বছর বড়দিনের দিন একটি বোতলে আস্ত একটি গির্জা তৈরি করেছিল তিনি। কার্তিক পুজোর সময় কার্তিকে ক্ষুদ্র মূর্তিও তৈরি করেছিলেন।