শহিদ মিনারে বিজেপির সভা তখন শুরু হয়ে গিয়েছিল। রীতিমত বক্তব্য রাখতে শুরু করেও করে দিয়েছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু তখনও সভাস্থলে উপস্থিত হননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তথা বিজেপির সেকেন্ড ইন কমান্ড অমিত শাহ। এই পরিস্থিতিতেই  উত্তাল হয়ে ওঠে ধর্মতলা চত্ত্বর। অমিত শাহর কনভয় আটকাতে পথে নামে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনেরর প্রতিবাদীরা। কালো পতাকা নিয়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা। প্রতিবাদীদের পথ আটকাতে রীতিমত কালঘাম ছুটে যায় পুলিশের। উত্তেজিত জনতার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও ঘটনাস্থল থেকে তাদের সরিয়ে দিয়ে পারেনি নিরাপত্তা রক্ষীরা।  ডোরিনা ক্রসিং থেকে গ্র্যান্ড হোটেল পর্যন্ত জমায়েত করেছিল প্রতিবাদী। সভাস্থল থেকে মাত্র দু কিলোমিটার দূরে এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে কলকাতা পুলিশের ভূমিকা। 
 
শুধু ধর্মতলা নয় সকাল থেকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদ জানিয়েছে পথে নেমেছিলেন প্রতিবাদীরা। বেশ কয়েকটা জায়গায় প্রতিবাদের নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে বাম-কংগ্রেসকে। তবে অনেক জায়গায় কোনও পতাকা ছাড়াই পথে নেমেছিলেন সাধারণ মানুষ। কালো পাতাকা হাতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন তাঁরা। অনেক জায়গায় উঠেছিল অমিত শাহ গোব্যাক স্লোগান। কলকাতা বিমান বন্দর থেকে যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল তার রেশ অব্যাহত ছিল কৈখালি, খিদিরপুর, যাদবপুরসহ একাধিক জায়গায়। প্রতিবাদী বাম নেতারা এদিন সরাসরি নিশানা করেন বিজেপিকে। একই সঙ্গে তাঁদের নিশানায় ছিল তৃণমূল কংগ্রেসও। 
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আইনে পরিণত হওয়ার পরই গত এগারোই জানিয়ারি কলকাতা সফরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সময় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল কলকাতা। একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ সমবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।  অনেক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে উঠেছিল গোব্যাক স্লোগান। তার পর কেটেগেছে প্রায় দেড় মাস। সেই ছবির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি এখনও। মার্চ মাসের প্রথম রবিবারও কলকাতার রাজপথ উত্তাল হয়ে উঠেছিল নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে।