সোমবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথের সঙ্গে বৈঠকের পর বৈঠকে উপস্থিত মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রিসবার ২০ জন মন্ত্রীই পদত্যাগ করলেন। মুখ্য়মন্ত্রী কমল নাথের কাছেই তাঁরা পদত্যাগপত্র পেশ করেন। কমল নাথ সকলের পদত্যাগপত্রই গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এএনআই। রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে বিধ্বস্ত মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস। এদিন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ঘনিষ্ঠ ৬ মন্ত্রী-সহ ১৯ জন বিধায়ক গোপনে বেঙ্গালুরু চলে যাওয়ার পর সোমবার রাতে ওই বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই বিষয়ে কমল নাথ বলেছেন, মাফিয়াদের সহায়তায় যারা রাজ্যে স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চাইছে তাদের তিনি সফল হতে দেবেন না। মধ্যপ্রদেশের মানুষের বিশ্বাস ও ভালবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সরকার মধ্যপ্রদেশের জনগণের তৈরি সরকার। সেই সরকারকে যে শক্তিগুলি নড়বড়ে করে দিতে চাইছে তাদের তিনি পরাস্ত করবেন বলে হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি।

৯ মার্চ সোমবার বিকেলে বেঙ্গালুরুর হ্য়াল বিমানবন্দরে নামেন মধ্যপ্রদেশের উনিশ জন কংগ্রেস বিধায়ক। এঁরা প্রত্যেকেই দলীয় নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার ঘনিষ্ঠ বলে জানা গিয়েছে। এরপরই দিল্লি থেকে তড়িঘড়ি ভোপালে ফেরেন কমল নাথ। প্রথমে দলের বিশিষ্ট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারপর রাতে মন্ত্রীসভার বৈঠক ডাকেন তাঁর বাসভবনে। সেখানে মাত্র ২০ জন মন্ত্রী হাজির ছিলেন। তাঁরাই পদত্যাগ করেছেন।

পদত্যাগের পর রাজ্যের সদ্যপ্রাক্তন আইন মন্ত্রী পিসি শর্মা জানিয়েছেন, তাঁদের সরকার টিকে রয়েছে। তাঁরা সকলে পদত্যাগ করে মুখ্যমন্ত্রীকে নতুন করে মন্ত্রীসভা গঠনের অনুরোধ করেছেন। আরেক সদ্যপ্রাক্তন মন্ত্রী উমং সিঙ্গার-ও একই দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, কংগ্রেসের সব বিধায়কই কংগ্রেসের সঙ্গে রয়েছেন। এমনকী যে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া-ই এই রাজনৈতিরক অস্থিরতার কলকাঠি নাড়ছেন বলে মনে করা হচ্ছে, তিনিও কংগ্রেসের সঙ্গেই রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলের সব বিধায়ককে নিয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেস হাই কমান্ডও উদ্বেগে। দিল্লিতেও কংগ্রেসের জাতীয় নেতাদের মধ্য়ে তৎপড়তা দেখা গিয়েছে। রাতেই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ভারপ্রাপ্ত সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর ১০ জনপথ রোডের বাসভবনে যান তিনি।