নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে বিতর্কের মধ্যে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভায় বক্তব্য রাখা নিয়ে খোঁচা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তৃণমূল সাংসদের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে কটাক্ষের সুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ছ' বছরে প্রথমবার তিনি অভিষেককে সংসদে বক্তব্য রাখতে দেখলেন। 

সোমবার লোকসভায় পাশ হয়ে যায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। প্রায় বারো ঘণ্টা বিলে নিয়ে বিতর্ক চলে সংসদে। বিরোধী দলগুলির পক্ষে যে সাংসদরা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বিলের সমালোচনা করে অভিষেক বলেন, 'এনআরসি একটি ফাঁদ ছিল। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আরও বড় ফাঁদ। সরকার যে নীতি নিয়েছে তা ধ্বংসাত্মক, বিভাজনমূলক।'

অভিষেক বলেন, 'ধর্মের ভেদাভেদ না করেই নাগরিকত্ব দেওয়া উচিত। মায়ানমার, শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও তো ভারতের  সীমানা রয়েছে। তাহলে সেখানকার নিপীড়িত সংখ্যালঘুদের কথা ভাবা হচ্ছে না কেন? কারণ তাতে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির স্বার্থসিদ্ধি হবে না। একটা রাজ্যে এনআরসি কার্যকর করতে গিয়ে বিপর্যয় হয়েছে, এবার তা গোটা দেশে করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।'

অভিষেক দাবি করেন, এই বিল অসাংবিধানিক, দেশ বিরোধী। এই বিলকে বাঙালি বিরোধী বলেও অভিযোগ করেন অভিষেক। তৃণমূল একজনও প্রকৃত ভারতীয় হয়রানি সহ্য করবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন অভিষেক। নিজের বক্তব্যে নেতাজি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরদের নাম নেন অভিষেক। সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এরকম বিভাজনমূলক ভারতবর্ষের কল্পনা করা হচ্ছে জানতে পারলে তিনি আঁতকে উঠতেন।'

আরও পড়ুন- বারো ঘণ্টার বিতর্কের পর পাশ নাগরিকত্ব বিল, এবার চ্যালেঞ্জ রাজ্যসভায়

আরও পড়ুন- নাগরিকত্ব বিল কি সংখ্যালঘু বিরোধী, জবাবে ০.০০১ শতাংশের অঙ্ক দিলেন অমিত শাহ

জবাবি ভাষণ দিতে উঠে অভিষেকের এই বক্তব্যকে হাতিয়ার করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তৃণমূল সাংসদের বক্তব্যের প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, 'আজকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিলের উপরে ভাষণ দিলেন। গত ছ' বছরে প্রথমবার আমি তাঁকে সংসদে বক্তব্য রাখতে শুনলাম, ভালই বলেছেন। কিন্তু  আমি একটা ছোট্ট প্রশ্ন করতে চাই। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় নিজের বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়দের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন। আমি শুধু একটা ছোট্ট প্রশ্ন করতে চাই। রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিম, বিবেকানন্দরা কি এমন বাংলার কল্পনা করেছিলেন যেখানে দুর্গাপুজোর অনুমতি পেতে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়? সরস্বতী পুজো করা যায় না।'

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান তৃণমূল সাংসদরা। পাল্টা অমিত শাহ তাঁদের বলেন, 'আপনারা রেগে যাচ্ছেন কেন, আমি তো তৃণমূলের নাম করিনি।'

তৃণমূলকে আক্রমণ করে অমিত শাহ আরও বলেন, 'এর মধ্যে কোনও ফাঁদ নেই। এই বিলকে তাঁদেরই ধর্মীয় ফাঁদ মনে হতে পারে যাঁরা ভোটব্যাঙ্কের জন্য অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেয়। এটা আমরা হতে দেব না। আমি বাংলার সব সাংসদদের বলছি, লক্ষ লক্ষ মানুষ যাঁরা নাগরিকত্ব পাবেন, তাঁরা অধিকাংশই বাঙালি। আপনারা কি চান না যে হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী বাঙালি উদ্বাস্তুরা নাগরিকত্ব পান।'