লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় হিংসাত্মক সংঘর্ষে ভারত ও চিন দুইপক্ষেরই বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য়ের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চিনা কর্তৃপক্ষ সরকারি ভাবে এই বিষয়ে কিছু না বলায় তাদের দিকে হতাহতের সংখ্যা ঠিক কত তা নিশ্চিত করা যায়নি। এবার ভারতীয় সেনা সদস্যও ঠিক কতজন এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এই নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হল। সংখ্যাটা ৩, ১০ না ২০ এই নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

এদিন সকালে ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল কর্নেল সন্তোষ বাবু নামে বিহার রেজিমেন্টের এক কমান্ডিং অফিসার-সহ মোট তিনজন ভারতীয় সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এদিন সন্ধ্যায় সংবাদ সংস্থা পিটিআই সরকারি সূত্রের কথা উল্লেখ করে দাবি করে নিহত ভারতীয় সেনার সংখ্যা ১০। তার কিছুক্ষণ পরই আবার সংবাদ সংস্থা এএনআই দাবি করেছে বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্র তাদের জানিয়েছে চিনা সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা সদস্য শহিদ হয়েছেন। সেই সঙ্গে মৃতেরর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।

সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়েছিল ৩ জনের। অন্য ১৭ জন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। সেই অবস্থায় গালওয়ান উপত্যকার হিমাঙ্কের নিচে থাকা তাপমাত্রায় ধাক্কা তাঁরা সহ্য করতে পারেননি। পরে প্রাণ হারান তাঁরাও।

অন্যদিকে, চিনের ঠিক কতজন সৈন্য এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন তা সরকারিভাবে জানায়নি বেজিং। কিন্তু, সেখানকার বিভিন্ন প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী তাদের অন্তত ৫ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকেও এক বিবৃতি দিয়ে দুই পক্ষেরই প্রাণহানির দাবি করা হয়েছে। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বলা হয়, বেজিং একতরফাভাবে ওই অঞ্চলের স্থিতাবস্থার পরিবর্তন করতে চেষ্টা করেছিল। গালওয়ান উপত্যকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখাকে মেনে নেওয়ার বিষয়ে ঐক্যমত হয়েছিল ভারত-চিন। তা চিনা পক্ষ মেনে না চলাতেই উভয়পক্ষই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ভারত সরকারের সূত্রটি জানিয়েছে, তাঁদের কাছে খবর রয়েছে অন্তত ৪৫ জন চিনা  সেনা মৃত বা গুরুতর আহত।

এদিন লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চিনা সেনাদের সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। তার আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, ভারতের প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত এবং সেনা প্রধান জেনারেল এম এম নারাভানের সঙ্গে বৈছক করে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এখনও পর্যন্ত যা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, ভারত প্রত্যুত্তরের পথে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করে যাবে।