শুক্রবার, বছরের প্রথম দিনই এসেছিল প্রথম সুখবর। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিড ভ্য়াকসিন কোভিশিল্ড-কে জরুরু ভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করেছিল সরকারি বিশেষজ্ঞ কমিটি। শনিবার সরকারি কমিটির ছাড়পত্র পেল একেবারে দেশজ পদ্ধতিতে তৈরি করোনা টিকা, কোভ্যাক্সিন। হায়দরাবাদের ভারত বায়োটেক সংস্থা এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিকাল রিসার্চ-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে এই টিকা।

শুক্রবার বছরের প্রথম দিনেই সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও)-এর একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল 'কোভাক্সিন' টিকাকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। এই ভ্যাকসিনটির ৫০ থেকে ৬০ কোটি টিকা ইতিমধ্যেই তৈরি করেছে সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। এদিন সেই একই কমিটি সবুজ সঙ্কেত দিল কোভ্যাক্সিন-কেও। তবে, শেয কথা বলবে ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া বা ডিসিজিআই। দুটি ভ্যাকসিনের কোনওটিকেই এখনও এই সর্বোচ্চ সংস্থা অনুমোদন দেয়নি। তারা হ্যাঁ বললেই ভারতে টিকাকরণ শুরু হয়ে যাবে।

ভারত বায়োটেক-এর তৈরি টিকার ছাড়পত্র পাওয়া আরও এক কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২৯ ডিসেম্বর ভারত বায়োটেক জানিয়েছিল, যুক্তরাজ্য এবং দক্ষিণ আফ্রিকাতে সম্প্রতি আবিষ্কার হওয়া করোনাভাইরাস-এর নতুন স্ট্রেনগুলির মোকাবিলাতেও 'কোভাক্সিন' কার্যকর হবে। ভারত বায়োটেকের চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর কৃষ্ণ এলা বলেছিলেন, 'কোভাক্সিন' এর প্রোটিন উপাদানগুলি সার্স-কোভ-২'এর রূপান্তরগুলির বিরুদ্ধেও সমান কার্যকর থাকবে। কাজেই নতুন রূপান্তর ভারতে ছড়িয়ে গেলেও, এই টিকা তার মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।

কোভিশিল্ড এবং কোভাক্সিন-কে ভারতে ব্যবহারের ছাড়পত্র দেওয়ার সুপারিশ করা ছাড়াও এদিন সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন-এর বিশেষজ্ঞ কমিটি ক্যাডিলা হেলথ কেয়ার লিমিটেড-এর তৈরি ভ্যাকসিন প্রার্থীটির তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিকাল পরীক্ষার অনুমোদনের সুপারিশও করেছে।