উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডে বিজেপি নেতা কুলদীপ সেঙ্গারকে দোষী সাব্যস্ত করল দিল্লির তিস হাজারি আদালত। আগামী ১৯ডিসেম্বর প্রাক্তন বিজেপি বিধায়কের শাস্তি ঘোষণা করা হবে। পকসো আইনে নাবালিকা নির্যাতিতাকে অপহরণ এবং ধর্ষণের অভিযোগে কুলদীপ সেঙ্গারকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। বিজেপি নেতা সেঙ্গারকে দোষী সাব্যস্ত করার পাশাপাশি সিবিআই- এর তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। যদিও এই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত সেঙ্গারের সহকারী শশী সিংকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন বিচারক। 

২০১৭ সালের জুন মাসে বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গার ওই নাবালিকাকে অপহরণ করে নিজের বাড়িতেই ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার সময় নির্যাতিতা নাবালিকা ছিলেন।  ২০১৮ সালে  ওই নির্যাতিতা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাড়ির সামনে বিচার চেয়ে ধর্নায় বসার পরই বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হয়। গত বছর এপ্রিল মাসে শেষ পর্যন্ত বিজেপি বিধায়ক সেঙ্গারকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। কিন্তু তার পর পরই ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে নির্যাতিতার বাবাকে বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। কয়েকদিন পরেই পুলিশ হেফাজতে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় তাঁর। সেই মামলাতেও অভিযুক্ত সেঙ্গার-সহ মোট দশজন। মামলার অন্যতম এক সাক্ষী ইউনুস নামে একজনেরও গত বছরই রহস্যজনক মৃত্য়ু হয়। চলতি বছরের জুলাই মাসে রহস্যজনক গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় নির্যাতিতা এবং তার আইনজীবী। 

প্রথমে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ এবং পরে সিবিআই এই মামলার তদন্তের দায়িত্বভার হাতে নিলেও তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে বার বার প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপত্তাহীনতার দাবি করে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন বিচারপতি রঞ্জন গগৈকে কয়েকমাস আগে চিঠি লেখেন নির্যাতিতা। এর কয়েকদিন পরে রহস্যজনকভাবে নির্যাতিতার গাড়িতে একটি ট্রাক ধাক্কা মারে। সেই দুর্ঘটনায় নির্যাতিতার দুই আত্নীয়ার মৃত্য়ু হয়। প্রাণে বাঁচলেও গুরুতর আহত হন নির্যাাতিতা। তাঁকে লখনৌ থেকে উড়িয়ে দিল্লির এইমস-এ নিয়ে আসা হয় চিকিৎসার জন্য। 

এ দিন সেঙ্গারকে দোষী সাব্যস্ত করার পাশাপাশি সিবিআই এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশ-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। যেভাবে বিধায়কের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পর থেকেই নির্যাতিতার পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাঁদের হয়রানি করা হয়েছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারক। পাশাপাশি, সিবিআই কেন নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে নির্যাতিতার কাছে অফিসার না পাঠিয়ে উল্টে তাঁকে বার বার বয়ান রেকর্ড করার জন্য সদর দফতরে ডকে পাঠাল সিবিআই, সেই প্রশ্নও তোলেন বিচারক ধর্মেশ শর্মা। বিস্মিত বিচারক প্রশ্ন করেন, নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ডের জন্য কি একজনও মহিলা অফিসারকে পায়নি সিবিআই। 

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই এ বছরের অগস্ট মাস থেকে উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডের মূল মামলা-সহ মোট পাঁচটি মামলার শুনানি দিল্লির আদালতে শুরু হয়। নির্যাতিতা পরিবারকেও আধা সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা দিয়ে দিল্লিতে এনে রাখা হয়েছে। 

মামলার শুনানিতে অভিযুক্ত বিজেপি নেতার আইনজীবী দাবি করেছিলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই সেঙ্গারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু সেই যুক্তি খারিজ করে দেয় আদালত। 

মূল মামলাটির বিচার শেষ হলেও এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকটি মামলায় সেঙ্গার এবং তার সহযোগীদের বিচার চলছে। তার মধ্যে রয়েছে নির্যাতিতার বাবাকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ এবং রহস্যমৃত্যুর মামলা, নির্যাতিতার গাড়ি দুর্ঘটনার মামলা এবং নির্যাতিতাকে ফের একবার গণধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা।