সাত কংগ্রেস সাংসদকে সাসপেন্ড করার পরেও উত্তাপ কমেনি। শুক্রবারও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দিল্লির হিংসা নিয়ে আলোচনার জন্য সওয়াল করতে থাকেন বিরোধী দলের সাংসদরা। এই পরিস্থিতি চলতে থাকে স্লোগান আর পাল্টা স্লোগান। ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদের দুই কক্ষের অবহাওয়া। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবারই আগামী ১১ই মার্চ অর্থাৎ বুধবার পর্যন্ত স্থগিত করে দেওয়া হয় লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন। অন্যদিকে এদিন সকাল থেকেই গান্ধি মূর্তির সামনে রাহুল গান্ধির উপস্থিতিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কংগ্রেস সাংসদরা। 

আরও পড়ুনঃ ৫০ হাজারের বেশি টাকা তোলা যাবে না, ইয়েস ব্যাঙ্কের ওপর নিয়ন্ত্রণ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের

শুক্রবার সকাল থেকেই সুর চড়া ছিল কংগ্রেস সাংসদদের। তবে প্রথমেই কংগ্রেস সাংসদরা স্পিকার ওম বিড়লা সঙ্গে দেখা করেন। পাশাপাশি দলের সাত সাংসদকে সংসদে ফিরিয়ে নেওয়ার আর্জি জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দিল্লির হিংসা নিয়ে আন্দোলনের দাবি জানিয়েছিল কংগ্রেস সাসদরা। কিন্তু তারপরই ওই সাত সাংসদ অশোভন আচরণ করেন বলে অভিযোগ। ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি স্পিকারের টেবিল থেকে কাগজ ছিনিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেন। তারপরই কেরলেন চার সাংসদ টি এন প্রথাপন, ডিন কুরিয়াকোসে, রাজমোহন উন্নিথন ও বেন্নি বেহননকে সাসপেন্ড করেন স্পিকার। পাশাপাশি সাসপেন্ড করা হয় অসমের গৌরব গগৈ, পঞ্জাবের গুরজিৎ সিং আউজলা ও তামিলনাড়ুর মনিকা টেগোরকে। বেলা দশটা নাগাদ কংগ্রেস সাংসদরা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন।সূত্রের খবর, সেই সময়ই সংসদে ওয়াক আউটের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। 

আরও পড়ুনঃ 'ভোলানাথের রোষ' নাকি দুর্ঘটনা, 'সময় বাঁচানো' প্রণামের পরই যা হাল হল তরুণীর, দেখুন

সাত কংগ্রেসর সাসংদকে সাসপেন্ডের প্রতিবাদে বিরোধীরা তুমুল হৈহট্টোগোল শুরু করেদেন সাংসাদে। কী কারনে দলীয় সাংসদদের সাসপেন্ড করা হল তাও জানতে চেয়ে সরব হন তাঁরা। লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী জানিয়েছেন, কিসের ভিত্তিতে তাঁর দলের সাত জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হল, তা তিনি জানেন না। তবে সরকার পক্ষের হয়ে সওয়াল করে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী বলেন গত ৭০ বছরের ইতিহাসে এমন বিশৃঙ্খল আচরণ দেখেনি ভারত। সরকার কোনও সাংসদকেই কক্ষের বাইরে রাখতে চায়না বলেও তিনি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বৃহস্পতিবারের ঘটনার তীব্র নিন্দাও করেন তিনি। তবে এদিন ডিএমকে কংগ্রেসেরে পাশে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি কংগ্রেসের সাত সাংসদের ওপর থেকে সাসপেনশন প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছেন দলের এমপি দয়ানিধি মারান। 

আরও পড়ুনঃ স্ট্যাচু অফ ইউনিটি দেখতে গিয়ে বিপত্তি, রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ গোটা পরিবার

অন্যদিনে এদিন আবারও সামনের সারিতে দেখা গেল কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধিকে। গান্ধি মূর্তির সামনে দলের সাংসদদের অবস্থান বিক্ষোভে তিনিই নেতৃত্বদিলেন। সেখান থেকেই তিনি আবারও নিশানা করেন প্রাধনমন্ত্রীকে। দিল্লির হিংসা নিয়ে অবিলম্বে মুখ খোলা উচিৎ প্রধানমন্ত্রীর।দাবি জানান রাহুল। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগও দাবি করেন তিনি। দিল্লির হিংসায় প্রায় ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আর এই হিংসা নিয়ে কংগ্রেস প্রথম থেকেই নিশানা বানিয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে।