নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯-এর উপর এখনই স্থগিতাদেশ জারি করা হবে না। বুধবার সাফ জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই বিষয়ে ১৪৩টি আবেদন শোনে। আদালত জানিয়ে দেয় কেন্দ্রের বক্তব্য না শুনে তারা এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না। জবাব দিতে কেন্দ্রকে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হল। সেই সঙ্গে আদাললত আরও জানালো এরপর থেকে এই মামলার শুনানি হবে বৃহত্তর সাংবিধানিক বেঞ্চে।

অ্যাডভোকোট জেনারেল বেনুগোপাল আদালতকে জানান, এই সমস্ত আবেদনের জবাব দিতে কেন্দ্রের ছয় সপ্তাহ সময় লাগবে। বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিবাল আদালতের কাছে সিএএ-র উপর স্থগিতাদেশ জারি করা এবং জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন বা এনপিআর আপডেট করার কাজ আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে এই বিষয়ে কেন্দ্রের বক্তব্য না শুনে তারা কোনও স্থগিতাদেশ দেবে না।

এরজন্য কেন্দ্রীয় সরকার কে সুপ্রিম কোর্ট চার সপ্তাহ সময় দিয়েছে। আগের আবেদনগুলির সঙ্গে সঙ্গে নতুন যে আবেদনগুলি জমা পড়েছে সেগুলি নিয়েও নোটিশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকে। এরপর থেকে এই মামলার শুনানির জন্য একটি পাঁচ বিচারকের সাংবিধানিক বেঞ্চ গড়বে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে এই সিএএ-কে চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদনের শুনানি যতদিন পর্যন্ত চলবে, ততদিন এই সংক্রান্ত কোনও মামলার শুনানি হাইকোর্টগুলিতে বা অন্য কোনও আদালতে চলতে পারবে না বলেও জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।

এদিন সুপ্রিম কোর্ট সিএএ-র বিরুদ্ধে হওয়া মামলা গুলিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগও করেছে। সিএএ-র সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয় এমন বিষয়গুলিকে আলাদাভাবে শুনানি হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে। যেমন অসম ও ত্রিপুরা চুক্তি এবং নাগরিকত্বের পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়গুলি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। আদালত এই দুটি রাজ্য থেকে এই বিষয়ে হওয়া মামলার তালিকাও চেয়েছে। কেন্দ্রকে এই দুই রাজ্যের ঝুলে থাকা মামলা গুলির জবাব দেওয়ার জন্য দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছে।