বৃথাই গেল ফাঁকা হুঙ্কার। অবশেষে ভারতের অনমনীয় মনোভাবের সামনে ঘাড় বাঁকাতে বাধ্য হল ড্রাগন। সোমবার সংশ্লিষ্ট বিষয়টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এক ভারতীয় সেনার সূত্র জানিয়েছে, গ্যালওয়ান উপত্যকার যে অঞ্চলে এতদিন ধরে ভারতীয় ও চিন সেনার ঠোকাঠুকি চলছিল, সেই এলাকা থেকে অন্তত এক থেকে দেড় কিলোমিটার পিছিয়ে গিয়েছে চিনা পিপপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ।

মাত্র ছয়দিন আগেই গত ৩০ জুলাই ভারতীয় সেনা ও চিনা পিএলএ-র শীর্ষস্থানীয় সামরিক কমান্ডাররা চলমান সীমান্ত সংঘাতের অবসান ঘটাতে বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে দুই পক্ষই 'অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তাত্পর্যপূর্ণ, পর্যায়ক্রমিক সেনা প্রত্যাহার'-এর বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। তারপরেও রবিবার পর্যন্ত গালওয়ান উপত্যকার কাছে চিনা সেনা তাঁবুর সংখ্যা বাড়াচ্ছিল, রাস্তা তৈরির কাজ চালাচ্ছিল বলে সেনা সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছিল। সেনা ছাউনির সংখ্যা ১৬ থেকে বেড়ে ১৯ হয়ে গিয়েছিল।

রবিবার থেকে অবশ্য চিত্রটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত এক ভারতীয় সেনা সদস্য জানিয়েছেন, কর্পস কমান্ডারদের সভায় যেরকম ঠিক হয়েছিল, তা অনুযায়ীই পিএলএ সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে। পিএলএ-তে পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৪ এলাকা থেকে চিনা তাঁবু এবং কাঠামো অপসারণ করতে দেখা গিয়েছে। পিএলএর সামরিক যানবাহনগুলিকেও গালওয়ান উপত্যকা ও গোগড়া হট স্প্রিংস-পোস্ট এলাকায় পিছু হঠতে দেখা গিয়েছে। পর্যায়ক্রমে উভয় পক্ষেরই আরও পশ্চাদপসরণ ঘটবে। প্রতি ৭২ ঘন্টা পর পর দুই পক্ষই সেনা প্রত্যাহারের পর্যালোচনা করবে।

প্রসঙ্গত গালওয়ান উপত্যকার এই পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৪-এর কাছ থেকে চিন সেনার তাঁবু সরানো নিয়েই গত মাসে দুই দেশের সেনার মধ্যে রক্তাক্ত সংঘর্ষ হয়েছিল। তারপর গোটা গালওয়ান উপত্যকাই তাদের বলে দাবি করে, গত কয়েকদিন ধরে সেখানে তাঁবু, রাস্তা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল পিএলএ। গালওয়ান নদীর তীরে ভারতীয় সেনা শিবিরের উপরে সরাসরি নজর রাখার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে গালওয়ান নদীর বাঁকে বাঁকে চিনা শিবির তৈরি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছিল সেনার সূত্র। যার কারণে পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৪ পর্যন্ত ভারতীয় সেনা টহল দিতে পারছিল না। এক সেনা কর্তা দাবি করেছিলেন পিএলএ নাকি ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে ১৪৯ মিটার ঢুকে এসেছে।