আইএনএক্স মিডিয়া দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেলেন কংগ্রেস নেতা এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদম্বরম। তিন মাস তিহার জেলে বন্দি থাকার পর জামিন পেলেন প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতা। সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ চিদম্বরমের জামিন মঞ্জুর করে। আগেই সিবিআই-এর দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। এবার ইডি-র মামলাতেও জামিন পাওয়ায় জেল থেকে মুক্তি পেতে আর কোনও বাধা রইল না। 

এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, সমস্ত প্রক্রিয়া মিটিয়ে এ দিন সন্ধ্যায় অথবা বৃহস্পতিবার সকালে তিহার জেল থেকে মুক্তি পেতে পারেন চিদম্বরম। ১০৫ দিন জেলে থাকার পর স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস নেতা। 

আরও পড়ুন- তিহার জেলে গুরুতর অসুস্থ পি চিদাম্বরম, কমেছে আট থেকে নয় কিলো ওজন

শুধু-শুধুই কাঁচা ঘুম ভাঙল রাষ্ট্রপতির, 'ব্যথিত' জেলবন্দি প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী

দু' লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে এ দিন কংগ্রেস নেতার জামিন মঞ্জুর হয়। তবে জামিন মঞ্জুর করলেও কংগ্রেস নেতাকে একাধিক শর্ত দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ছাড়া দেশের বাইরে যেতে পারবেন না তিনি। তদন্তে সহাযতা করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এই মামলা নিয়ে প্রকাশ্যে বা সংবাদমাধ্যমে কোনও মন্তব্যও করতে পারবেন না কংগ্রেস নেতা। একই সঙ্গে সাক্ষীদেরও প্রভাবিত করতে পারবেন না তিনি। তদন্তকারী সংস্থা ডাকলেই তাঁকে হাজিরা দিতে হবে। 

ইডি অবশ্য চিদম্বরমের জামিনের বিরোধিতায় মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল। ইডি-র তরফে যুক্তি দেওয়া হয়, জেলের বাইরে থাকলে তিনি সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন। যদিও চিদম্বরমের আইনজীবী পাল্টা বলেন, এই মামলা যথেষ্ট পুরনো। ফলে জামিন পেলেও কোনওভাবেই সাক্ষীদের প্রভাবিত করা বা প্রমাণ নষ্ট করতে পারবেন না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই চিদম্বরমকে হয়রান করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁর আইনজীবীরা।

পি চিদম্বরমের আইনজীবী এবং কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি জানান, 'সবদিক খতিয়ে দেখে শীর্ষ আদালত এই রায় দিয়েছে। মানবাধিকার রক্ষা করার স্বার্থে এই রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ,তদন্তে অসহযোগিতা করা, সাক্ষীদের প্রভাবিত করা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার মতো অভিযোগ আগেও চিদম্বরমের বিরুদ্ধে প্রমাণ করা যায়নি, এবারও তা করা যায়নি।'