গত কয়েকদিন ধরে উপত্যকায় লাগাতার জঙ্গিদমন অভিযান চালাচ্ছিল ভারতীয় বাহিনী। তার অংশ হিসাবে আসছিল একের পর এক সাফল্যও। সোম ও মঙ্গলবার পরপর দু'দিনের অভিযানে অনন্তনাগে  ৫ জঙ্গিকেও নিকেশ করেছিল সেনা। এর মধ্যেই এবার পাল্টা আঘাত হানল জঙ্গিরা। বারামুলায় সিআরপিএফের পেট্রোলিং পার্টির উপর হামলা চালাল জঙ্গিরা।  এই হামলায় শহিদ হলেন এক সিআরপিএফ জওয়ান। গুলির ক্ষত নিয়ে  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৩ জন জওয়ান। এঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।  পাশাপাশি নিহত হয়েছেন এক সাধারণ নাগরিকও।

 

বুধবার সাতসকালে বারামুল্লার জেলার সোপোরের মডেল টাউন এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন সিআরপিএফের কয়েক জন জওয়ান। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কিছু পুলিশ কর্মীও। সেই সময় হঠাৎ হামলা চালায় জঙ্গিরা।  আচমকাই গুলি চালিয়ে দেয় তারা। তাতে গুলিবিদ্ধি হন ৪ জওয়ান। তাঁদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়। কাশ্মীর পুলিশের প্রধান দিলবাগ সিং জানিয়েছেন আরহত জওয়ানদের মধ্যে ২ জন সামান্য আহত হয়েছেন। তাঁদের বিপদ কেটে গিয়েছে।

আরও পড়ুন: ৫৯টি অ্যাপ বন্ধের অপমান হজম করতে পারছে না চিন, বেজিংয়ে নিষিদ্ধ ভারতীয় সংবাদপত্র ও ওয়েবসাইট

এদিকে জঙ্গিরা এই হামলা চালানোর সময় ঘটনাস্থলে ৩ বছরের এক শিশুকে নিয়ে গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন এক সাধারণ নাগরিক। গুলি লাগে তাঁর গায়েও। মারা যান ওই ব্যক্তি। তবে বাচ্চাটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন: এখনি থামবে না অতিমারী, সামনে আরও ভয়াবহ দিন আসছে সতর্ক করে বলল 'হু'

ঘটনার পরেই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। কয়েকদিন আগেই কাশ্মীরের ডোডা জেলাকে জঙ্গি মুক্ত ঘোষণা করেছিল পুলিশ। সেখানে একাধিক অভিযান চালিয়ে জঙ্গি নিকেশ করা হয়েছিল। তবে লাদাখে উত্তেজনার সুযোগে পাকিস্তান যে জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়াবে সেই আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছিলেন দিলবাগ সিং।

এদিকে গতমাসে কাশ্মীরে ৩০ জনেরও বেশি জঙ্গিকে নিকেশ করা সম্ভব হয়েছএ বলে জানিয়েছেন কাশ্মীর পুলিশের প্রধান দিলবাগ সিং। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত খতম করা গিয়েছে ১০০ বেশি জঙ্গিকে। এদের মধ্যে ৫০ বেশি হিজবুল জঙ্গি। এছাড়া নিকেশের তালিকায় লস্কর  ও জইশ জঙ্গিরাও রয়েছে।