দিল্লির এক দায়রা আদালত ফের নির্ভয়া কাণ্ডে নতুন ফাঁসির দিন ঘোষণা করল। এই নিয়ে তৃতীয়বার। সোমবার আদালত জানালো নির্ভয়াকাণ্ডের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামীর ফাঁসি হবে ৩ মার্চ, সকাল ছটায়। এর আগে প্রথমে ফাঁসির দিন ঘোষণা করা হয়েছিল ২২ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন সকাল সাতটায় ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনের জেরে তা পিছিয়ে যায়। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি ফাঁসির দিন ধার্য হয়েছিল। কিন্তু, ফের একইভাবে সময় পিছিয়ে দেয় আসামি পক্ষ। এদিন মনতুন দিন ঘোষণার পর ফের কোন আইনি প্যাঁচ আসে সেটাই দেখার।

এর আগে দুই দুইবার আশা করে চূড়ান্ত হতাশ হতে হয়েছে নির্ভয়ার বাবা-মা'কে। ঘরপোড়া গরু যেমন সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়, তেমনই এখন আদালত থেকে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হলেও শেষ পর্যন্ত ফাঁসি হবেই এমন ভরসা করতে পারছেন না তাঁরা। এদিন আদালত রায় দেওয়ার পর নির্ভয়ার মা আশাদেবী বলেছেন, তৃতীয়বারের মতো মৃত্যুর পরোয়ানা জারি করা হল। এতে তিনি যে দারুণ খুশি তা বলা যাবে না। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছেন। তিনি সন্তুষ্ট যে আরও একবার মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হল। তিনি আশা করছেন ৩ মার্চ আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করা হবে, তবে নিশ্চিন্ত এখনই হতে পারছেন না।

তাঁকে একেবারেই দোষ দেওয়া যায় না। কারণ এদিন আদালতে আসামি পবন গুপ্তা রাষ্ট্রপতির কাছে ও সুপ্রিম কোর্টে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে চান। দোষী সাব্যস্ত চার আসামির মধ্যে একমাত্র সেই এখনও কিউরেটিভ পিটিশন বা প্রকাণভিক্ষার কোনও আবেদন করেনি। এছাড়া রাষ্ট্রপতি যে বিনয়কুমার শর্মার প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করেছেন, সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদনের ভিত্তিতে হওয়া মামলাও সুপ্রিম কোর্টে এখন বিচারাধীন। কাজেই যে কোনও সময়ই ফের ফাঁসির দিন পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিন শুনানির সময়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির মধ্যে অন্যতম মুকেশকুমার সিং আদালতে জানায় সে আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার তার প্রতিনিধিত্ব করুন তা সে চায় না। গত বছরই এই আসামির জন্য অ্যামিকাস কিউরি বা আদালতের বন্ধু হিসাবে বৃন্দা গ্রোভার-কে নিযুক্ত করা হয়েছিল। সেইসঙ্গে আসামি পক্ষ আদালতে আরও জানায় বিনয় শর্মা তীব্র মানসিক অসুস্থতায় ভুগছে। তিহার কারাগারে সে আপাতত অনশনে রয়েছে। তাই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না।