'কেন এত সময় নিচ্ছে আদালত' দিল্লির দায়রা আদালতের কক্ষ থেকে ববেড়িয়েই অসহায় ভাবে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিলেন আশা দেবী, নির্ভয়ার মা। মঙ্গলবার ভোরেই ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল ২০১২ সালের দিল্লির গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কিন্তু, ছিক একদিন আগে সোমবার ফের একবার পিচিয়ে গেল ফাঁসি। ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে আসামি পবনের প্রাণভিক্ষার আবেদন জানিয়েছেন। তাই ফাঁসি স্থগিত রাখা হল। এই নিয়ে তিন-তিনবার পিছিয়ে গেল ফাঁসি।

আরও পড়ুন - শেষ চেষ্টা মরিয়া পবনের, ফাঁসির একদিন আগে এবার রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আর্জি

এর আগে নির্ভয়া কাণ্ডের চার আসামির মধ্যে তিনজন - মুকেশ বিনয় ও অক্ষয় এক এক করে ফাঁসি এড়াতে তাদের হাতে থাকা সবকটি আইনি প্রতিকার ব্যবহার করেছিল। কিন্তু পবন চুপচাপ ছিল। সোমবার সকালে ফাঁসির একদিন আগে তার আইনজীবি সুপ্রিম কোর্টে কিউরেটিভ আপিল করে। তার কয়েক ঘন্টা পরেই আবার রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের কারণেই ফের একবার আদালত ফাঁসি পিছোতে বাধ্য হল। আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে সাতদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। তারপরও ফাঁসির জন্য তৈরি হতে ১৪ দিন সময় দিতে হয় আসামিদের।

আরও পড়ুন: সুপ্রিমকোর্ট খারিজ করল পবনের আবেদন, রাত পোহালেই নির্ভয়ার ধর্ষকদের ফাঁসি নিয়ে এখনও ধন্দ

কিন্তু, নির্ভয়ার মা-বাবা এইসব আইনি প্যাঁচ পয়জার আর বুঝতে চাইছেন না। এদিন আদালত থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, আদালতই আসামিদের ফাঁসি দেওয়ার আদেশ দিয়েছে। নিজেদের আদেশ কার্যকর করতেই কেন তারা এত সময় নিচ্ছে? বারবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার স্থগিতাদেশ ভারতের বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতাকেই তুলে ধরছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বারবার ধাক্কা খাওয়া মা বলেন, 'আমাদের পুরো সিস্টেম অপরাধীদের সমর্থন করে'।

আরও পড়ুন: শুরু হল দ্বিতীয় দফার বাজেট অধিবেশন, প্রথম দিনেই দিল্লি নিয়ে ধর্নায় কংগ্রেস-তৃণমূল-আপ

এর আগে প্রথমে ২২ জানুয়ারি, তারপর ১ ফেব্রুয়ারি - দুইবার ফাঁসির আদেশ স্থগিত করেছিল আদালত। এদিকে বারবার আইনি চালে নির্ভয়ার আসামিদের পাঁসি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের আইনজীবীদের বিরুদ্ধেই মামলা করার দাবি করেছেন ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ।