গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বারে বারে কেঁপে চলেছে দেশের রাজধানী। সোমবার ফের একবার ভূমিকম্পে কাঁপল দিল্লি। যদিও আগেরবারগুলির মত এবারও কম্পনেক মাত্রা ছিল কম।  রিখটার স্কেলে এদিন কম্পনের মাত্রা ছিল ২.১ বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি ৷ 

 

 

সোমবার বেলা একটা নাগাদ কেঁপে ওঠে  দিল্লি-গুরুগ্রাম সীমান্ত এলাকা। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল  ভূপৃষ্ঠের ১৮  কিমি গভীরে ৷ গত এপ্রিল মাস থেকে ধরলে দিল্লি এবং তার আশপাশের অঞ্চলে এই নিয়ে ১৪টি মৃদু ও মাঝারি মাপের ভূমিকম্প হল বলে জানানো হয়েছে ৷

দিল্লিতে প্রথম কম্পন অনুভূত হয় গত এপ্রিলের ১২ তারিখ। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৫। এরপর ১৩ এপ্রিল ফের কেঁপে ওঠে দেশের রাজধানী। সেবার কম্পনের মাত্রা ছিল ২.৭। গত ১০ মে দিল্লিতে হওয়া কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৪। আর ১৫ মে যে কম্পন অনুভূত হয়েছিল তার মাত্রা ছিল ২.২। 

আরও পড়ুন: বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষের চিকিৎসা নয় , স্বাস্থ্যকর্মীদের হোয়াটস অ্যাপ চ্যাট ফাঁস হল রাজস্থানে

৫ টা  ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে দিল্লি চতুর্থ সর্বোচ্চ অঞ্চলের অধীনে পড়ে। যে কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। তবে, দিল্লি নিজে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল, এটা বিরল ঘটনা। উচ্চ-ভূমিকম্প অঞ্চল হিসাবে পরিচিত মধ্য এশিয়া বা হিমালয় অঞ্চলে ভূমিকম্প আঘাত হানলে, তার প্রভাবে দিল্লিতে কম্পন অনুভূত হয়।

দিল্লি লাগোয়া অঞ্চলে এখনও পর্যন্ত জোরালো দু'টি ভূমিকম্পের একটি হয়েছিল ১৯৫৬ সালের ১০ অক্টোবর, বুলন্দশহরে। যার তীব্রতা ছিল ৬.৭। অপরটি ছিল মোরাদাবাদে, ১৯৬৬ সালের ১৫ অগস্ট। রিখটারে তীব্রতা ধরা পড়ে ৫.৮। এই দু'টি অঞ্চলই পড়ে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে।

আরও পড়ুন: রবিবারের পর সোমবারও সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে সাফল্য ভারতীয় সেনার, সোপিয়ানে নিকেশ আরও ৪ জঙ্গি

এদিকে , আইআইটি ধানবাদের সিসমোলজি বিভাগের জিওফিজিক্সের অধ্যাপক পিকে খান বলেন, একের পর এক ছোট মাত্রার কম্পন থেকেই বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এই বিষয়ে কেন্দ্রের এবং দিল্লির সরকারের আগাম সতর্ক হওয়া উচিৎ বলেও বার্তা দিয়েছেন তিনি। গত ২ বছরে ওই এলাকায় ৪ থেকে ৪.৯ মাত্রের ভূমিকম্প হয়েছে অন্তত ৬৪ বার। বিশেষত দিল্লি ও কাংরা অঞ্চলে এই কম্পন অনুভূত হয়েছে বারবার। দিল্লির মত জনবহুল জায়গায় এই ধরনের ভূমিকম্প মারাত্ম আকার ধারণ করতে পারে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক পিকে খান।