দিল্লি, হরিয়ানা,মণিপুরের পর রবিবার রাতে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল রাজ্য গুজরাত। এদিন রাত ৮ টা ১৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্যের রাজকোট শহর এবং আশেপাশের এলাকায় মাজারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প হল। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি থেকে জানানো হয়েছে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৮। রাজকোটের উত্তর-পশ্চিম-পশ্চিম দিকে, ১২২ কিলোমিটার দূরের এক এলাকায় এই ভূমিকম্পের কেন্দ্র।  

কম্পন অনুভূত হয়েছে আহমেদাবাদ-সহ রাজ্যের আরও বেশ কয়েকটি অংশেও। তবে হতাহতের বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর এখনও পাওয়া যায়নি।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি  আরও জানিয়েছে এদিন রাত ৮ টা ৩৫ মিনিট নাগাদ জম্মু ও কাশ্মীরের কাটরা থেকে ৯০ কিলোমিটার পূর্বে ৩.০ মাত্রার আরও একটি ছোট ভূমিকম্প হয়েছে। গত তিন মাসে ভারতে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প হয়েছে। ভূমিকম্প হয়েছে হরিয়ানা এবং মণিপুরে। অবশ্য সবচেয়ে বেশি কেঁপেছে দিল্লি  ও তার আশপাশের অঞ্চল। গত তিনমাসে এই এলাকায় প্রায় এক ডজন ছোট থেকে মাঝারি তীব্রতার ভূমিকম্প হয়েছে।

এনসিএস'এর দাবি, দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভূমিকম্পের কারণে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। এনসিএস-এর ডিরেক্টর বি কে বনসল বুধবারই বলেছেন, দিল্লির ভূমিকম্পের ইতিহাস দেখলে বোঝা যাবে এই এলাকায় ছোটখাটো ভূমিকম্প হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের যে প্রয়োজন রয়েছে, তাও তারা জানিয়েছে। বস্তুত অনেক বূমিকম্প বিশেষজ্ঞই বলছেন, দিল্লির এই ছোট ছোট ভূমিকম্প একটা বড় মাপের ভূমিকম্পের ইঙ্গিত দেয়।

এদিনের ভূমিকম্পের পরই গুজরাতের লোকজন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে শুরু করেন। এর আগে ২০০১ সালে গুজরাতের ভুজে ৭.৭ মাত্রার একটি বিশাল ভূমিকম্প হয়েছিল। প্রায় ২০,০০০ মানুষ এই ভূমিকম্পে মারা গিয়েছিলেন। আহত হয়েছিলেন আরও ১,৬৭,০০০ জন। ৩,৪০,০০০ বাড়ি ধূলিস্মাত হয়ে গিয়েছিল।