ফের অসমে তেলের কূপে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। ঘটনাস্থল সেই তিনসুকিয়া জেলায় বাঘযান তৈল খনি। বুধবার এই অয়েল ইন্ডিয়া নিয়ন্ত্রিত এই তৈল খনির পাঁচ নম্বর কূপের কাছেই এই বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় তিন বিদেশি বিশেষজ্ঞ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত তিন বিদেশিকেই দ্রুত নিকটবর্তী এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের মুখপাত্র ত্রিদীপ হাজারিকা এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন। বাঘযান তৈলখনিতে গত জুন মাসের শুরুতেই একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ধরে গিয়েছিল। সেই আগুন এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এদিনও সেই আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজই চলছিল। সেইসময়ই ফের এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফেরণের পর নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে কিছু এলাকায়। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণ অভিয়ান আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

বস্তুত গত মে মাস থেকেই অসমের এই তৈল খনির হাল ভালো ছিল না। গত ২৭ মে একটি কূপে বড় বিস্ফোরণ হয়েছিল। সেই থেকে অল্প অল্প করে গ্যাস লিক করছিল, বলে জানিয়েছিলেন স্থানীয় বাসন্দারা। আনলক প্রক্রিয়া শুরু হলে অয়েল ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুর থেকে বিশেষজ্ঞ দের নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু তারা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার গত ৯ জুন দুপুরে এরকমই এক বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে আগুন লেগেছিল তিনসুকিয়া জেলার এই তেলের খনিতে।

তৈল খনির কাছাকাছি অবস্থিত ডিব্রু সাইখোয়া জাতীয় উদ্যান আর মাহুপি মোটাপুং জলাভূমির দারুণ ক্ষতি হয়েছে।  কূপ সংলগ্ন ধান জমি, ফসলের ক্ষেত ও জলাভূমি-ও দারুণভাবে দুষিত হয়েছে। সংলগ্ন গ্রামগুলিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে শয়ে শয়ে বাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে৷ ওই এলাকার বহু মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বিধ্বংসী আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে প্রাণ হারান ২ দমকল কর্মী।

অসম সরকার জানিয়েছিল পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৫ দিন মতো লাগতে পারে। আগুন নিয়ন্ত্রণের ঘটনাস্থলে এসেছিল জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও বায়ুসেনার সদস্যরাও। তারপর ২৫ দিন পেরিয়ে গেলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।