মাত্র ৫ মিনিটের ব্যবধানে পরপর দুটি বিস্ফোরণ। রবিবার ভোররাতে কেঁপে উঠল জম্মু বিমানবন্দরের টেকনিক্যাল এরিয়া। ড্রোনের সাহায্যে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় দু'জন জওয়ান জখম হয়েছেন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বম্ব স্কোয়াডের আধিকারিকরা। পৌঁছে গিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে তারা।

 

 

আরও পড়ুন- জম্মু ও কাশ্মীর - শান্তি স্থাপনের পথে প্রথম পদক্ষেপ

জম্মু বিমানবন্দরের রানওয়ে ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ভারতীয় বায়ুসেনার অধীনস্থ। সেখান থেকে যাত্রীবাহী উড়ানও চলাচল করে। সেখানেই টেকনিক্যাল এরিয়া কাছে রবিবার ভোররাতে ৫ মিনিটের ব্যবধানে ২টি বিস্ফোরণ হয়। প্রথম বিস্ফোরণটি হয় রাত ১টা ২৭ মিনিটে একটি ভবনের ছাদে। আর দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটে খোলা জায়গায়, রাত ১টা ৩২ মিনিটে। এরপরই ঘিরে ফেলা হয় এলাকা।

 

 

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বিস্ফোরণ তীব্রতা খুব বেশি না হলেও দু’কিলোমিটার দূর থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। আর বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য ৪ কেজি ৭০০ গ্রাম আইইডি ব্যবহার করা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বায়ুসেনার ভাইস এয়ার চিফ এয়ার মার্শাল এইচ এস অরোরার সঙ্গে কথা বলেছেন। ঘটনা সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন মন্ত্রী। 

আরও পড়ুন-কলকাতায় জ্বালানীর দামে আগুন, শহরে পেট্রোলের দাম পেরোলো ৯৮ টাকা

এই ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার হাত রয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। ইতিমধ্যেই ২ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও বিস্ফোরণের সঙ্গে তারা জড়িত কিনা তা এখনও জানা যায়নি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

কয়েকদিন আগেই জম্মু-কাশ্মীরের সোপরে রাতভর চলা এনকাউন্টারে ৩ লস্কর জঙ্গিকে খতম করা হয়। এদের মধ্যে শীর্ষ স্থানীয় জঙ্গি কমান্ডার মুদাসির পণ্ডিতও রয়েছে বলে দাবি। জঙ্গি হামলার একাধিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল সে। মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় তার নাম ছিল। কাশ্মীরে সাধারণ নাগরিক ও কাউন্সিলরকে খুনের ঘটনায় জড়িত ছিল এই মুদাসির। 

আরও পড়ুন- পাখির চোখ ফের উত্তর প্রদেশ জয়, অযোধ্যার উন্নয়ন নিয়ে আদিত্যনাথের সঙ্গে বৈঠক মোদীর

মুদাসির-সহ ৩ জঙ্গি ওই এলাকায় রয়েছে বলে গোপন সূত্র থেকে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়েছিল সেনা। এদিকে এলাকায় তল্লাশি শুরু হতেই বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। পাল্টা তার জবাব দিয়েছিল সেনাও। তাতেই খতম হয় ওই ৩ জন লস্কর জঙ্গি। আর সেই কারণেই এই ড্রোন হামলার সঙ্গে লস্করের যোগ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।