পুনের সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার টিকা তৈরির কারখানায় আগুন। বৃহস্পতিবার, দুপুর ৩টে নাগাদ সিরাম ইনস্টিটিউটের নতুন তৈরি হওয়া একটি ভবনের দ্বিতীয় তলে আগুন লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। দমকলের অন্তত ১৪টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থনলে আগুন লাগানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এই কারখানাতেই ভারতে অনুমোদিত অন্যতম কোভিড ভ্যাক্সিন কোভিশিল্ড তৈরি করা হয়েছে। তবে বিসিজি ভ্যাকসিন-এর মজুত-ও যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তা ভারতের পক্ষে বড় ধাক্কা হবে। এছাড়া যদি দ্বিতীয় ভবন থেকে অগুনের ধোঁয়াও প্রথম ভবনে পৌঁছে যায়, সেইক্ষেত্রে কোভিড টিকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আসঙ্কা রয়েছে। 

আগুন যে ভবনটিতে লেগেছে, সেখানে কোভিড টিকা তৈরির কাজ হচ্ছিল না, বলেই প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। তবে, সেখানে বিসিজি ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছিল। কোভিড টিকা তৈরি করা হচ্ছে ইনস্টিটিউটের পুরোনো ভবনেই। দুই ভবনের মধ্যে দেড় থেকে দুই কিলোমিটারের ব্যবধান রয়েছে। তাই, কোভিড টিকা সুরক্ষিত আছে বলেই জানা গিয়েছে।

শুরুতে অগ্নিকাণ্ড খুব বড় ছিল না বলেই জানিয়েছেন দমকলের আধিকারিকরা। কিন্তু, সম্ভবত ভবনে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিকের জন্যই আগুন দ্রুত ভবনটিতে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ওই ভবনের চতুর্থ এবং পঞ্চম তলেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। প্রথমে ৪টি দমকলের ইঞ্জিন পাঠানো হলেও, পরে আরও ১০টি ইঞ্জিন পাঠানো হয় ঘটনাস্থলে। পৌঁছে গিয়এছে বিশাল পুলিশ বাহিনীও। দমকলের পক্ষ থেকে অন্তত ৩ জন কর্মীকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এখনও একজন ওই ভবনে আটকে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে দমকল কর্মীরা এখনও তাপ ও ধোঁয়ার জন্য ওই ভবনের ভিতরে প্রবেশ করতে পারেননি। আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণেও আনা যায়নি। এই অবস্থায় পুরো এলাকা ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের বাড়ি খালি করে দেওয়া হচ্ছে। আগুন যেভাবে ছড়াচ্ছে তাতে গোটা ভবনটিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আগুন যদি কোভিড ভ্যাকসিন তৈরির ভবনটিতে ছড়িয়ে পড়ে, সেই ক্ষেত্রে কোভিড টিকার সম্ভারকেও অন্যত্র সরানোর কথা ভাবতে হতে পারে।

আগুন কীভাবে লাগল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে এত বড় একটি টিকা প্রস্তুতকারী করখানায় অগ্নি নির্বাপনের উপযুক্ত ব্যবস্থা ছিল বলেই আশা করা হচ্ছে। এবং অন্যান্য সুৎ৭া ব্যব্সথাও ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। গোটা বিশ্বের একটা বড় অংশ যখন কোভিড মোকাবিলার জন্য সিরাম-এর দিকে তাকিয়ে রয়েছে, সেই ইনস্টিটিউটে কার গাফিলতিতে এমন ঘটনা ঘটল, তাই নিয়ে বড় মাপের তদন্তের দাবি উঠেছে।