পাঁচ শাগরেদের মতো পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু হল গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে-রও। বৃহস্পতিবারই তাকে মধ্যপ্রদেশের উজ্জইন-এর মহাকাল মন্দির থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, যে গাড়িতে বিকাশ দুবেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, বর্ষায় পিছল থাকা হাইওয়েতে সেই গাড়িটি আচমকা উলটে গিয়েছিল। সেই সুযোগে বিকাশ বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। সেই সময়ই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অদ্ভূত বিষয় হল তার আরও তিন শাগরেদ-ও পুলিশের দাবি মতো হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল, আর পুলিশ তাদের গুলি করে হত্যা করেছে।

ঘটনার পরের কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে বিকাশ দুবের দেহ স্ট্রেচারে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে জানা গিয়েছে আহত বিকাশের গুলিতে আহত তিন পুলিশ সদস্যের অবস্থা স্থিতিশীল। গুলি তাদের দেহ ছুঁয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। বিকাশের দেহে দুটি গুলি লেগেছিল বলে জানিয়েছেন  হ্যালেট হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডাক্তার আরবি কামাল। বিকাশের মৃত্য়ুর পরই তার স্ত্রী রিচা ও ছেলে আটক করেছিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিকাশ দুবের অপরাধের সঙ্গে তারা জড়িত ছিল না বলে জানিয়েছেন কানপুরের এসএসপি দীনেশ কুমার। তবে এখনও তার গ্যাং-এর ১২ জন দুষ্কৃতী এখনও পলাতক বলে জানা গিয়েছে।

গত শুক্রবার কানপুরে আট পুলিশ সদস্যকে নির্বিচারকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছিল বিকাশ ও তার দলবল।  তারপর তেকে পরের পাঁচদিন উত্তকরপ্রদেশের পুলিশকে নাকানি-চোবানি খাইয়ে পালিয়ে বেরিয়েছে সে। বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রদেশের উজ্জইন-এর বিখ্যাত মহাকাল মন্দির থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের দাবি সে প্রসাদ কিনে মন্দিরে প্রবেশ করার সময়ই তাকে মন্দিরের নিরাপত্তারক্ষীরা চিনে ফেলেন। তারাই পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে। জানা গিয়েছিল কানপুরের গ্রাম থেকে পালিয়ে সে প্রথমেহরিয়ানার ফরিদাবাদে এসেছিল। সেখানে পুলিশ আসার ঠিক আগেই সে হোটেল থেকে পালায়। এরপর গাড়ি চালিয়ে প্রথমে সে রাজস্থানের কোটা এবং শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশে চলে এসেছিল। ১,৫০০ কিলোমিটারের এই যাত্রাপথে তাকে কোথাও পুলিশ আটকায়নি।

বৃহস্পতিবারও তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে না সে নিজেই তার পছন্দের সময় ও স্থানে গিয়ে আত্মসমর্পন করেছে তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। মধ্যপ্রদেশ পুলিশ ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কথা মেলেনি। মধ্যপ্রদেশ থেকে তার গ্রেফতারির দাবি করা হলেো উত্তরপ্রদেশ পুলিশের পদস্থ কর্তা দাবি করেন, তার একের পর এক শাগরেদ ধরা পড়া এবং কয়েকজন পালাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে হত হওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতেই সে আত্মসমর্পণ করেছিল।

অদ্ভূত বিষয় হল তার কয়েক ঘন্টা পরই শুক্রবার সকালে সংঘর্ষে মৃত্যু হল বিকাশ দুবেরও। বৃ-হস্পতিবার সকালে বিকাশ দুবের আরেক শাগরেগ প্রভাত মিশ্রও মারা গিয়েছিল প্রায় একই ধরণের এনকাউন্টারে। সেই ক্ষেত্রে পুলিশ তাকে যে গাড়িটিতে করে নিয়ে আসছিল, তার টায়ার পাংচার হয়ে যায়। টায়ার বদলের সময় সেও পালাতে গিয়েছিল এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তাকে গুুলি করে হত্যা করে। আবার বব্বন নামে তার আরেক শাগরেদ একটি গাড়ি চুরি করে পালানোর সময় পুলিশের গুলিতে তার প্রাণ যায়।

হতে পারে সবকটিই কাকতালীয় ঘটনা। কিন্তু, একই ঘটনা বারবার ঘটতে থাকলে, তার মধ্যে একটি নকশা খুঁজে পাওয়া যায় বলে কথা উঠছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বৃহস্পতিবারই কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বিকাশ দুবের ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করছিলেন। মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেতা দিদ্বিজয় সিং আবার দাবি করেছিলেন ওই গ্যাংস্টারের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে। তাই তাকে বাচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও প্রসাসনের তরফ থেকে। এনরকাউন্টারের পর প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি মুখ বন্ধ করতেই তাকে হত্যা করল পুলিশ?