পাঁচ বছরের বেশি সময় হয়ে গেছে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে। তবুও, হিন্দুরাষ্ট্রবাদীরা  নিজের দেশেই   নিরাপদ বোধ করছেন না। শ্রীরাম চন্দ্রের দেশে  তাদের দিকে ধেয়ে আসছে হুমকি! হিন্দুরা এখনও ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে বলির ভেড়া হিসাবে রয়ে গেছে। তারা এখনও তাদের নিজের মাতৃভূমি এবং পূজ্যভূমিতে সম অধিকারের জন্য লড়াই করে চলেছে।

যে ব্যক্তি এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস করে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি সনাতন সভ্যতার পক্ষে কথা বলে তাকে তৎক্ষণাত শেষ করে দেওয়া হয়। আমরা যদি এই ধ্বংস কার্যটিকে  বিশ্লেষণ করি তবে আমরা একটি প্যাটার্ন দেখতে পাব।

কীভাবে আপনি ৬টি পর্যায়ে জাতীয়তাবাদকে ধ্বংস করতে পারবেন:

পদক্ষেপ ১: অপ্রতুল বিদেশি তহবিল এবং জালিয়াত সংগঠনের সঙ্গে জনসংযোগ শক্তিশালী করে তুলুন: 

মিডিয়া হাউস দ্য ওয়ার টুকদে  টুকদে  গ্যাং নামে জনপ্রিয় হয়েছে। তারা স্বাধীন সাংবাদিকতার মাধ্যমে সত্য তুলে ধরার দাবি করে, তবে তাদের নেতৃত্বে একদল লোক সন্দেহজনক পোষ্ট এবং খুব সন্দেহজনক গোষ্ঠীর সাথে লিঙ্ক করে। আমরা তাদের সবসময় যে কোনও  বিষয়ে সরকারবিরোধী অবস্থান নিতে দেখেছি। তারা নাগরিকদের মধ্যে যন্ত্রের মত চালিত করতে চাইছে। তাদের ওয়েবসাইটে একটি শিরোনাম হিসাবে লেখা হয়েছে: "সাবরমতী গান্ধী আশ্রমকে 'বিশ্বমানের' হোটেল হিসাবে গড়ে তোলা হচ্ছে," যা এখানাকার আবাসিকদের মধ্যে সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে ভয়ের সঞ্চার করছে। আশ্রমে বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধাগুলি গড়ে তোলার জন্য সরকারের এই  পদক্ষেপকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। বলাই বাহুল্য  দ্য ওয়্যারের প্রতিষ্ঠাতা একজন আমেরিকান নাগরিক।

তবে শুধু তারাই  এই কাজ করছে না। আমরা দেখেছি টাইম ম্যাগাজিন শ্রী নরেন্দ্র মোদীকে "ডিভাইডার চিফ" হিসাবে উল্লেখ করেছে। আমরা দ্য কুইন্ট, ওয়াশিংটন পোস্ট এবং স্ক্রোল.ইন-কেও  একই কাজ করতে দেখেছি। এগুলি হল বিদেশি অর্থিক সাহায্যপ্রাপ্ত  সংস্থা যারা আমাদের দেশে সন্ত্রাস ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার অ্যাজেন্ডা নিয়েছে। 

তারা  বুদ্ধিজীবিদের সরকারের বিরুদ্ধে "শ্যুট অ্যান্ড স্কুট" নীতি গ্রহণ করার বিষয়ে উস্কানি দিচ্ছে।  তারা একটি বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে,  যা মানুষের মধ্যে  প্রধানমন্ত্রীকে  সন্দেহ তৈরি করবে। তারা কোনও সংকট সমাধানের ইচ্ছা পোষণ করে না। না! তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হল কাদা ছোঁড়াছুড়ি এবং ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করা। তারা তথ্য দিয়ে  আমাদের ইতিহাসকে ভুলভাবে উপস্থাপন করবে এবং বিরোধীদের পক্ষে "নিরপেক্ষ" মতামত লিখবে।

এই ধরণের লোকজন দেশ ও জাতির হয়ে  কথা বলা ব্যক্তিদের অনলাইনে ট্রোল করে এবং তাদের জীবন ও ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেয়।


পদক্ষেপ ২: প্রথম ধাপের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কারাগারে প্রেরণ করুন

বিচার বিভাগ এখনও অবশিষ্ট বাম মাফিয়ার হয়ে  কাজ করছে (কংগ্রেস রাজনীতিবিদ এবং বিশিষ্ট  আইনজীবী  অভিষেক মনু সিংভির কুখ্যাত ভিডিওটি মনে রাখবেন, যেখানে একজন মহিলা আইনজীবী তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তাকে যৌন অনুগ্রহের বিনিময়ে বিচারক করা হবে কিনা! )

সম্প্রতি আমরা হিন্দু নেতা  কমলেশ তিওয়ারিকে হারিয়েছি। চারপাশের শান্তি বিঘ্নিত হওয়ায়, কারও যৌনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কমলেশ,  সেকারণে তাকে অখিলেশ যাদব সরকার গ্রেফতার করেছিল। লোকেরা কী ভুলে যাবে,  যে এটা সমাজবাদী দলের নেতা আজম খানের দেওয়া মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া ছিল। খান বলেছিলেন, আরএসএস প্রচারকরা সমকামী হওয়ায় তারা অবিবাহিত রয়েছেন। তবুও, চড় মারার কারণে শুধুমাত্র তিওয়ারিই জাতীয় নিরাপত্তা আইনে এক বছর জেলখানায় কাটান, আর নিঃসঙ্কোচে ঘুরে বেড়ান খান!

একই ধরণের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন  প্রজ্ঞা ঠাকুর! তিনিও  হিন্দু বিরোধী মনোভাবের শিকার হন, মালেগাঁও বিস্ফোরণ  মামলায় মিথ্যাভাবে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়,  কারাগারে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তিনি, যদিও পরবর্তী সময়ে  জাতীয় তদন্ত সংস্থাতাকে ক্লিন চিট দেয় ।

পদক্ষেপ ৩: যে লোকের এখনও শিক্ষা পাযনি তাদের খতম কর!

কমলেশ তিওয়ারির মতো মানুষই আসলে নির্লজ্জ! তারা কখনও চুপ করে থাকতে শেখেনি! তারা এখনও তাদের মাতৃভূমি এবং তাদের বিশ্বাসের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তাহলে কীভাবে এমন জেদী মানুষকে চুপ করবেন? উত্তরটা খুব সহজ। তাদের খতম করে দেওয়া।

এই পর্যায়ে, তাদের স্লিপার সেল সক্রিয় হয় এবং নিজেদের পরিকল্পনা কার্যকর করে। এখানে তারা কৌশলগতভাবে যত্ন সহকারে খারাপ ব্যক্তিদের  সভ্য সম্প্রদায়ের মত সাজায়। কয়েক ঘন্টার মধ্যে শিকারকে খুন করা হয়, তার বেঁচে থাকার অধিকার সমাপ্ত করা হয়বে। কমলেশ তিওয়ারির হত্যাকারীরা ফেসবুকে তার সাথে বন্ধুত্ব করেছিল এবং তার হত্যার ঠিক আগের রাতেই কমলেশের  সংগঠনে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, এরপরে বৈঠকটি স্থির হয়েছিল।

পদক্ষেপ ৪: যারা ক্ষতিগ্রস্থদের প্রতি সহানুভূতি দেখান, তাদের অপরাধী সাজান হয়!

কমলেশ তিওয়ারির এর যোগ্য ছিল!
কমলেশ তিওয়ারি সমাজের জন্য হুমকি ছিলেন যিনি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উস্কে দেন!
অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে মুক্তি!
একজন ফ্যাসিবাদীর পরিণতি!

এগুলি আমার কথা নয়। কমলেশ তিওয়ারির মৃত্যুর পরে গণমাধ্যমে প্রচারিত হয় এই কথাগুলি। রাম জন্মভূমের শুনানি শেষ হওয়ার মাত্র দুদিন পরে কমলেশ তিওয়ারিকে হত্যা করা হয়েছিল। তিওয়ারির হত্যাকাণ্ড আমাদের এটি একটি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে দেশ  আসলে কীভাবে অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। মানুষ যতই জোরে বলুক যে ভারত এখন হিন্দুদের দ্বারা আধিপত্য বজায় রেখেছে, তবুও উগ্রবাদ এখনও প্রচলিত আদর্শ। মত প্রকাশের স্বাধীনতা হিন্দু ছাড়া সবার রয়েছে! লোকেরা  বহু বছর ধরে কমলেশ তিওয়ারির মৃত্যুর দাবি জানিয়ে আসছে এবং তা অর্জন করেছে।  এখন হিন্দুদের কাছে তাকে  দোষী করে তোলা হচ্ছে, প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে তিনি  সত্যিই একজন ভয়াবহ মানুষ ছিলেন।

পদক্ষেপ ৫: বিষয়টিকে হিন্দু আগ্রাসনে রূপান্তর করুন
দেখুন মৃত্যুর পরে গণমাধ্যমে যে বিষয়টি ঘুরে বেড়াচ্ছে: হিন্দুরা আগ্রাসী। হ্যাঁ অবশ্যই! কিছুদিন আগে একটি ছেলের শিরশ্ছেদ করা সত্ত্বেও, শান্তিকামীরা এখনও আওয়াজ তুলছে না। কিন্তু সংখ্যালঘুরা কীভাবে ভারতে হুমকির মধ্যে রয়েছে  সে সম্পর্কে বিদেশি মিডিয়া হাউসগুলিকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য বুদ্ধিজীবিদের অভাব হবে না।

কমলেশ তিওয়ারি হত্যার মাত্র দুদিন পরে, একটি স্ব-প্রচারিত “কমিউনিস্ট নাস্তিক” ট্যইটারে শান্তি বজায় রাখা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এটি অনুসরণ করে, স্ক্রোল.ইন. দ্য হিন্দু, ওয়্যার, কুইন্ট এবং অন্যান্য অনেক গণমাধ্যম  কমিউনিস্ট নাস্তিকের পক্ষ নেয়।  এর থেকেই  কীভাবে  ভুলভাবে সাম্প্রদায়িকভাবে আঁকা হচ্ছে তা  উন্মত্ত হয়ে ওঠে।

পদক্ষেপ ৬: অশিক্ষিত সাধুদের লক্ষ্য করুন

কিছু অশিক্ষিত লোককে বিশেষত  নিম্ন শিক্ষিত সাধুদের লক্ষ্য করবেন যাদের আবেগ বাঁধ মানে না। আপনি দেখতে পাবেন তাদের বলা এই ভিডিও ক্লিপগুলি মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে দ্রুত  ভাইরাল হয়। কমলেশ তিওয়ারিকে কীভাবে হত্যা করা হল তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তখন আর বিতর্ক থাকবে না। বরং কিছু সাধুর সংবেদনশীল উৎসাহের  ভিডিও প্রচার করে  সংখ্যালঘুরা যে  বিপদে রয়েছে তা আবার প্রমাণ করা হবে।

তাহলে, এই সময়ে আপনি কীভাবে বাঁচবেন?

 হিন্দুদের সাথে যেভাবে এদেশে আচরণ করা হয় তাতে বোঝা যায় ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতা আসলে প্রহসন, যা হিন্দুদের অধিকারকে স্বীকৃতি দিতেও ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের আকাঙ্ক্ষা, আশা ও স্বপ্ন বাস্তবে তথাকথিত শান্তিকামীজের জন্য উদ্বেগের বিষয় নয়। ১৯২৬ সালে স্বামী শ্রদ্ধানন্দকে ঠাণ্ডামাথায় খুন কর থেকে ২০১৯ সালে কমলেশ তিওয়ারিকে খুন, ইতিহাস হিন্দুদের বিরুদ্ধে বারবার সহিংসতার সাক্ষি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং হিন্দুরা সংঘবদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকবে। শারীরিকভাবে নয় আদর্শগত ভাবে  এই সংঘবদ্ধ হতে হবে। কারণ তরোয়ালের চেয়ে কলম অনেক শক্তিশালী।

অভিনব খারে সম্পর্কে কিছু কথা: 

অভিনব খাবের এশিয়ানেট নিউজ নেটওয়ার্কের সিইও, পাশাপাশি তিনি ডিপ উইথ একে  নামে একটি দৈনিক অনুষ্ঠানের হোস্টও। দুই ফুটফুটে  কন্যার গর্বিত বাবা, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে  বেঙ্গালুরুতে থাকন তিনি। বই এবং গ্যাজেটের প্রতি তাঁর বাড়তি শখ রয়েছে । ইতিমধ্যেবিশ্বেরশতাধিক শহরে ঘোরা হয়ে গিয়েছে তাঁর।

একজন প্রযুক্তিবিদ উদ্যোক্তা,যাঁর নীতি, প্রযুক্তি, অর্থনীতি থেকে শুরু করে প্রাচীন ভীরতের  দর্শনের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। তিনি ইটিএইচ জুরিখ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং-এ এমএস  করেন  এবং লন্ডন বিজনেস স্কুল থেকে ফিনান্সে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।