করোনা আক্রান্ত ইরান থেকে প্রথম পর্যায় ৫৮ জন তীর্থযাত্রীকে দেশে ফেরান হল। গতকালই  গাজিয়াবাদে হিন্দোন এয়ারবেস থেকে ছাড়ে গিয়েছিল আইএএফ-১৭ গ্লোবমাস্টার। ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিশেষ বিমানেই ইরানের আটকে পড়া তীর্থ যাত্রীদের নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার সকালে হিন্ডোন এয়ার বেসে  বিমান বাহিনীর বিশেষ বিমান অবতরণ করে। দেশে ফিরে স্বাস্তিতে ইরানে আটকে পড়া তীর্থ যাত্রীরা। বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই এই খবর জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ভারতীয় বিমান বাহিনী, ইরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের কর্মী, ইরান প্রশাসনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ভারতীয় চিকিৎসক দলকে। যাদের নেতৃত্ব আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপদে ফেরানো গেছে। 

চিনের বাইরে ইরানে করোনাভাইরাস রীতিমত মহামারির আকার নিয়েছে।  করোনার জীবানুতে সংক্রমিত হয়ে নতুন করে আরও ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ইরানে। সববমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ২৩৭। আক্রান্তের সংখ্যা সাত হাজারেরও বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যত জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে সেদেশে। এই পরিস্থিতে ভারত থেকে বিশেষত কাশ্মীর থেকে যাওয়া শিয়া তীর্থ যাত্রীরা আটকে পড়েছিলেন ইরানে। অনেক ভারতীয় পড়ুয়াও তেরহানে আটকে পড়েছেন। বেশ কয়েক দিন ধরেই ইরানে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছিল। 

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন জানিয়েছিলেন, ভারতীদের সুরক্ষার জন্য ইরানে পাঠানো হয়েছিল বিজ্ঞানীদের। আক্রান্ত অনেকেরই নমুনা সংগ্রহও করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার রাতে গাজিয়াবাদের হিন্দোন এয়ারবেশ থেকে ছাড়ে আইএএফ-১৭ গ্লোবমাস্টার। যা প্রথম পর্যায়ে উদ্ধার করে নিয়ে আসে ৫৮ জন তীর্থ যাত্রীকে।

গতকাল আচমকাই কাশ্মীর সফরে  গিয়েছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ইরানে আটকে পড়া ভারতীয় ছাত্রের পরিবারের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। তারপরই ট্যুইট করে বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছিলেন ইরানে আটকে পড়া ভারতীয়দের দ্রুততার সঙ্গে দেশে ফিরেয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তাঁর সরকার। 

অন্যদিকে ভারতেও করোনার প্রকোপ ক্রমশই বাড়ছে। বর্তমানে এদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭।