দেশে প্রথম দফার লকডাউনের শেষদিন ছিল গত মঙ্গলবার। সেদিনই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন লকডাউনের সময়সীমা বাড়ান হচ্ছে। দেশে ৩ মে পর্যন্ত চলবে দ্বিতীয় দপার লকডাউন। তবে সাধারণ মানুষের সমস্যা দূর করতে কেন্দ্রীয় সরকার  ২০ এপ্রিলের পর কৃষিকাজ , তথ্য প্রযুক্তিক্ষেত্র এবং  আন্তঃরাজ্য পরিবহণে  ছাড় দেওয়ার কথা ভাবতে পারে। বুধবার এই নির্দেশিকাই জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশ্যে  ভাষণ দিয়ে লকডাউনের মেয়াদ ৩ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । কিন্তু সেই সঙ্গে তিনি এও বলেন , যে সব জেলায় কোনো হটস্পট ২০ এপ্রিলের মধ্যে তৈরি হবে না, সেই সব জেলায় বেশ কিছু বিষয়ে ছাড় দেওয়ার কথা ভাববে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর সেই ঘোষণার পরেই এই নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। 



করোনা মহামারীর মাঝে এবার হামের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা, বন্ধের পথে ১১ কোটি শিশুর টীকাকরণ
ভিসার নিয়ম ভেঙে ধর্মপ্রচার, তাবলিগ জামাতে যোগ দেওয়া ৫৭ জন বিদেশিকে এবার জেলে পুড়ল পুলিশ
মৃত্যু মিছিলে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রেকর্ড আমেরিকার, এবার 'হু' কে অনুদান বন্ধ করলেন ট্রাম্প

বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নির্দেশিকা জারি করা হয়। কেন্দ্রের তরফে জারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সমাজের যে যে ক্ষেত্রগুলি গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষিকাজ এবং চাকরি তৈরির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেইসব ক্ষেত্রকে ছাড়ের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে এই সব ক্ষেত্রেই করোনা সম্পর্কিত নিয়মাবলী কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
 

কেন্দ্রের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০ এপ্রিলের পর সংক্রমিত এলাকা বাদে বাকি সব এলাকায় লকডাউনের আওতা থেকে বাদ যাবে কৃষিক্ষেত্র। বাদ যাবে কৃষি সম্পর্কিত শিল্প। ছাড় দেওয়া হয়েছে কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদন, অনুমোদিত কিষাণ মান্ডির মাধ্যমে ফসল বিক্রি এবং স্থানীয় স্তরে ফসল বিক্রির উপর। দুধ বিক্রি, দুগ্ধ সরবরাহ, মৎস্য চাষ এবং পোল্ট্রি ফার্মের কাজের ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে। চা ও কফি উৎপাদনে ক্ষেত্রে পুরোপুরি ছাড় দেওয়া হবে। ছাড় দেওয়া হবে রাবার চাষের ক্ষেত্রেও। উদ্যান পালনেও দেওয়া হবে ছাড়।

 
গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে  কুটির শিল্প, গ্রামাঞ্চলের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, রাস্তা তৈরি, সেচ প্রকল্প, নির্মাণ শিল্প, গ্রামাঞ্চলে শিল্প প্রকল্পের কাজ, একশ দিনের কাজ (সেচ ও জল সংরক্ষণে জোর দিতে হবে) প্রভৃতিতেও  ছাড় দেওয়া হচ্ছে। নিয়ন্ত্রিত উপায়ে ছাড় দেওয়া হবে শহুরে শিল্প কারখানায়। কেন্দ্রের দাবি, এই ক্ষেত্রগুলিতে ছাড় দিলে গ্রামাঞ্চলে কাজের সুযোগ তৈরি হবে। পরিযায়ী শ্রমিকরাও কাজ করার সুযোগ পাবেন। তবে, সব ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

কেন্দ্র জানিয়েছে, তথ্য প্রযুক্তি এবং ই-কমার্স এর মতো সেক্টরেও ২০ এপ্রিল থেকে আংশিক ছাড় দেওয়া হবে। ধীরে ধীরে চালু হবে আন্তরাজ্য পরিবহণেও। তবে সব ক্ষেত্রেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। এছাড়া সব কাজের ক্ষেত্রেই গোটা দেশে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরা। পাশাপাশি প্রকাশ্য়ে থুতু ফেলাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে।

তবে এই বিষয়গুলিতে ছাড় দেওয়া হলেও, ৩ মে পর্যন্ত হটস্পটহীন জায়গাগুলিতেও কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শপিং মল, সিনেমা হল, কিছুই খোলা যাবে না।