অবশেষে গ্রেফতার হলেন দেশদ্রোহের দায়ে অভিযুক্ত জেএনইউ-এর ছাত্র শারজিল ইমাম। চারদিন ধরে খোঁজ চালানোর পর এদিন বিহারের জাহানাবাদ থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং পরিকল্পিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর বিরুদ্ধে 'উসকানিমূলক বক্তৃতা' দেওয়ার অভিযোগে এই সমাজকর্মীরল বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
দিল্লি পুলিশ ওই মামলা দায়ের করা পরই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও জাহানাবাদ পুলিশ শারজিলের বিহারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার দুই আত্মীয়কে আটক করে। কিন্তু, তারপরেও তাঁকে গ্রেফতার করা যায়নি। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন বিরোধীরা। শাহীনবাগ আন্দোলনের মঞ্চ থেকেই প্রচারের আলোয় এসেছিলেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র।

পুলিশের দাবি বিহারের বাসিন্দা জেএনইউ-এর গবেষক শারজিল ইমাম সিএএ এবং এনআরসি-র বিরোধিতা করে অত্যন্ত উসকানিমূলক বক্তৃতা দিয়েছেন। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও একইরকম একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। তারপরে শাহীনবাগে সরকারের বিরুদ্ধে আরও জ্বালাময়ী ভাষণ দেন, যার অডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

ওই অডিও ক্লিপে ইমামকে বলতে শোনা গিয়েছে, অসমকে শিক্ষা দিতে ভারতের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া উচিত। কারণ সেখানে বাঙালিরা হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়কেই হত্যা করা হয়েছিল অথবা তাদেরকে বন্দি শিবিরে আটক করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পাঁচ লক্ষ লোককে সংগঠিত করা গেলেই অসমকে স্থায়ীভাবে ভারতের থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব। যদি স্থায়ীভাবে নাও হয়, তবে কমপক্ষে কয়েক মাসের জন্য তো এই কাজ করা যাবেই।