গত রবিবার (৫ জানুয়ারি) রাতে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে মুখ ঢেকে রড লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। এই ঘটনায় ছাত্রসংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষ-সহ আহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং অধ্যাপকও। ঘটনার পাঁচদিন পরও সেই ঘটনার একজনকেও চিহ্নিত না করতে পারলেও, তার আগের রাতে সার্ভার রুমে হামলার ঘটনায় জড়িত ঐশী ঘোষ এবং চার বাম ছাত্র সংগঠন বলে দাবি করল দিল্লি পুলিশ।

শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠক করে পুলিশ জানায়, ঘটনার একদিন আগেই সার্ভার রুমে ভাঙচুর চালানোয় সিসিটিভি ফুটেজ পাননি। তারজন্যই ৫ তারিখের হামলাকারীদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। কিন্তু ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং পারিপার্শ্বিক তদন্তের ভিত্তিতে ৪ তারিখের হিংসার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন নয়জন চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের সাতজনই বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্য। আর দুইজন আছেন এবিভিপির সদস্য।

ডিসিপি জয় তিরকি-র দাবি, জেএনইউ ছাত্র সংসদের সভানেত্রীর নেতৃত্বেই ৫ জানুয়ারি বিকেল পৌনে চারটে নাগাদ পেরিয়ার হস্টেলে হামলা চালিয়েছিল বাম ছাত্রদলের সদস্যরা। এই বিষয়ে এখনও অবধি তিনটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং দিল্লি পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানান তিনি। সেইসঙ্গে ফুটেজ থেকে সংগৃহিত বেশ কয়েকজনের ছবিও প্রকাশ করেছে তারা। ঘটনায় চার বামপন্থী ছাত্র সংগঠন - এসএফআই, এআইএসএফ, আইসা ও ডিএসএফ কর্মীরা জড়িত ছিল বলে জানানো হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের জনসংযোগ আধিকারিক, এমএস রণধাওয়া বলেছেন, হিংসার ঘটনায় দায়ের করা ফৌজদারি মামলা সম্পর্কে তদন্ত করছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এই পর্যন্ত নয় জনকে সনাক্ত করা হয়েছে। এই মামলাগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রচুর ভুল তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

সন্দেহভাজন হিসাবে চিহ্নিত হওয়া এই নয়জন হলেন -

ঐশী ঘোষ, জেএনএসইউ সভাপতি

বিকাশ প্যাটেল, এমএ কোরিয়ান স্টাডিজ

পঙ্কজ মিশ্র, স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্স

চুনচুন কুমার, জেএনইউ-র প্রাক্তন ছাত্র

যোগেন্দ্র ভরদ্বাজ, পিএইচডি সংস্কৃত

দোলন সমানাটা, স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্স

সুচেতা তালুকদার, স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্স

প্রিয় রঞ্জন, স্কুল অব ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ

ভাস্কর বিজয়

ডিসিপি জয় তিরকি আরও বলেছেন, তাঁরা এখনও পর্যন্ত চিহ্নিত করা ব্যক্তিদের গ্রেফতার করেননি। আপাতত তাদের নোটিশ দেওয়া হবে। সেখানে তারা কী করছিলেন তার ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

রবিবার সন্ধ্যার ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, পেরিয়ার হস্টেলে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার পর, সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সবরমতি টি-পয়েন্টে একটি শান্তি বৈঠক করে। এই বৈঠক চলাকালীনই একদল লোক এসে সভায় উপস্থিত ছাত্র ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়ায় ও পরে সবরমতি হস্টেলে ঢুকে হামলা চালায়। পেরিয়ার হস্টেলে হামলার কায়দাতেই সবরমতী হস্টেলেও নির্দিষ্ট কক্ষগুলিকে নিশানা করা হয়েছিল। এর থেকে পুলিশ সন্দেহ করছে মুখোশের আড়ালে জেএনইউর শিক্ষার্থীরাই ছিল।

ঐশী ঘোষ অবশ্য বলেছেন, পুলিশ তাদের উপর দোষ চাপিয়ে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে 'মিথ্যা গল্প' সাজানোর চেষ্টা করছে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এতে তাঁরা ভয় পাচ্ছেন না।