বিজেপির সব চেষ্টাই ব্যর্থ হল। আস্থাভোটের কথা বলে, সারাদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেও শেষ পর্যন্ত ভোটই করল না কর্নাটকের কংগ্রেস-জেডিএস সরকার। এদিনের মতো বিধানসভা মুলতুবিই করে দেওয়া হল। তবে বিজেপিও ছেড়ে কথা বলছে না। সারারাত তারা বিধানসভাতেই ধরনা দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইয়েদুয়াপ্পারা।

একেবারে শুরুর থেকেই কীভাবে আস্থাভোট এড়ানো যায় তার চেষ্টাতেই মেতেছিল কংগ্রেস-জেডিএস। এদিন জোট সরকারের মোট ২০ জন বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন। কাজেই আস্থাভোট হলে অবশ্যই কুমারস্বামী সরকারের পতন ঘটত। বিভিন্ন আলোচনা পাল্টা আলোচনায় তাঁরা সময় কাটিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। বিধায়ক শ্রীমন্ত পাতিলের আচমকা মুম্বই চলে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পিছনে বিজেপির চক্রান্তের অভিযোগ করা হয়।

এমনকী স্পিকারও শ্রীমন্ত স্বেচ্ছায় মুম্বই গিয়েছেন কিনা এই নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্র দফতর থেকে। শেষ পর্যন্ত শ্রীমন্তকেই শিখন্ডী করে তোলেন শাসক জোটের নেতারা। কংগ্রেসকে আস্থাভোটে হারানোর উদ্দেশ্যে তাঁকে বিজেপি অপরহরণ করেছে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে কংগ্রেস। বিধানসভার ভিতরও এই অভিযোগে তীব্র ঝামেলা পাকানো হয়।

বিজেপিও অবশ্য স্পিকার কোনও ভাবেই আস্থাভোট করতে চাইছেন না, এই  অভিয়োদগ করে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল রাজ্যপালের কাছে। রাজ্যপাল স্পিকারকে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই আস্থাভোট সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেন। স্পিকারকে পাঠানো বার্তায় রাজ্যপাল বলেন, মেয়া চলাকালীন বিধান ভার আস্থা অর্জন করতেই হবে মুখ্যমন্ত্রীকে। বৃহস্পতিবারের মধ্যেই আস্থাভোট করতে হবে।

কিন্তু শ্রীমন্ত পাতিলের ছবি হাতে কংগ্রেস-জেডিএস বিধায়কদের তীব্র গোলমালের মধ্যে রাজ্যপালের নির্দেশ নিয়ে অ্যাডভোকেট জেনারেলের আইনি পরামর্শ নেন স্পিকার। আর তারপরই এইদিনের মতো সভা মুলতুবি করা হয়।

বিজেপি নেতারা যেভাবেই হোক এদিনই আস্থাভোট করতে চেয়েছিলেন। স্পিকার সভার কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁরা রাজ্যালের নির্দেশ নিয়ে স্পিকারের জবাবের দাবি জানান। তাতেও কাজ না হওয়ায় বিজেপি নেতা ইযেদুয়াপ্পা জানান, যতক্ষণ না আস্থাভোট হবে, ততক্ষণ তাঁরা সভাকক্ষেই থাকবেন।