রাজ্যসভায় সোমবারই পাশ হয়ে গিয়েছিল জম্মু কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল। বিলের সমর্থনে এ দিন ভোট পড়ে ৩৬৭টি এবং বিপক্ষে ভোট পড়ে ৬৭টি। এই সংখ্যাই বুঝিয়ে দিচ্ছে, রাজ্যসভার মতো লোকসভাও শরিক দলগুলির বাইরেও অন্যান্য বেশ কয়েকটি দলের সাংসদদের সমর্থন পেয়েছে এই বিল। 

তার মধ্যে সবথেকে বড় সমর্থনটা এসেছে কংগ্রেস নেতা এবং মধ্যপ্রদেশের সাংসদ জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার থেকে। কার্যত দলের অবস্থানের উল্টো সুরে তিনি লোকসভায় দাঁড়িয়ে তিনি এই বিলকে সমর্থনের কথা জানান। কংগ্রেস সাংসদ বলেন,'আমি জম্মু কাশ্মীর এবং লাদাখকে ভারতের অভিন্ন অংশ হিসেবে যুক্ত করার এই পদক্ষেপকে সমর্থন করি। কিন্তু যদি সাংবিধানিক রীতি মেনে এটা করা হতো, তাহলে প্রশ্ন তোলার কোনও জায়গা থাকত না। তা সত্ত্বেও দেশের স্বার্থে আমি একে সমর্থন করি।' জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে কংগ্রেসের কাছে বড় ধাক্কা।  কারণ কাশ্মীর ইস্যুতে দলের ভিতরের মতানৈক্যের ছবিটা আরও প্রকট হয়েছে। তার উপর এ দিনই রাহুল গান্ধী কাশ্মীর নিয়ে সরকারের পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে টুইটও করেছেন। 

আরও পড়ুন- কাশ্মীর নিয়ে লোকসভায় বেফাঁস অধীর, বক্তব্য শুনে রেগে গেলেন সোনিয়াও

আরও পড়ুন- ৩৭০ প্রত্যাহারে কি সমর্থন, বিতর্কে না ঢুকে কৌশলী মমতা, দেখুন ভিডিও

এ দিন লোকসভাতেও বিল পাশের আগেও ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার এবং কাশ্মীর ও লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করার সমর্থনে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমি শাহ। বিরোধীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ফের পূর্ণ রাজ্যের তকমা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। 

এর পাশাপাশি কংগ্রেসকেও এ দিন একহাত নিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁরা কোনও ঐতিহাসিক ভুল করছেন না, বরং একটি ঐতিহাসিক ভুল শুধরে নিচ্ছেন।  তিনি আরও দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তের পরে কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনও সমস্যা হয়নি। সমস্ত রকমের সতর্কতামূলক ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে। 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হুরিয়ত নেতাদের সঙ্গে তাঁরা কথা বলতে রাজি নন, কিন্তু কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে তৈরি। একই সঙ্গে তিনি জানান, কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করা হলেও উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি থেকে ৩৭১ ধারা প্রত্যাহারের কোনও পরিকল্পনা নেই কেন্দ্রের।