রবিবার তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দিল্লিতে এইবারের ভোটে তারা ৭০টি আসনের মধ্যে ৬২টিতেই জয়ী হয়েছে। রবিবার, সকালে বিজেপির প্রাক্তন সঙ্গী শিবসেনা, তাদের মুখপত্র 'সামানা'-য় দিল্লির এই ভোটের এক অদ্ভূত ভাষ্য দিল। শিবসেনার বিশিষ্ট নেতা তথা 'সামানা'-র কার্যনির্বাহী সম্পাদক সঞ্জয় রাউত তাঁর সম্পাদকীয়-র কলামে লিখেছেন দিল্লি-তে জেতার জন্য বিজেপি 'ভগবান রামকেই প্রায় মাঠে নামিয়েছিল', কিন্তু দিল্লিতে 'রামরাজ্য' নিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

এদিন সামানা-র সম্পাদকীয়তে সঞ্জয় রাউত বিজেপির ধর্মবিত্তিক রাজনীতির তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর মতে ধর্মবিহীন কোনও দেশ হয় না। তার মানে এই নয় যে ধর্মই দেশপ্রেম। কিন্তু, বিজেপি দিল্লির নির্বাচনে যেভাবে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেছে, তাতে তারা প্রায় ভগবান রামকে ভোটে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল বলা যায়। কিন্তু ভগবান হনুমানের অনুগামী কেজরিওয়াল দিল্লিতে 'রামরাজ্য' এনেছেন। তাই ভগবান রাম দিল্লিবাসী রূপে সেই হনুমান ভক্তকেই দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে।

সঞ্জয় রাউত আরও বলেন, এই নির্বাচন থেকে সকলের শিক্ষা নেওয়া উচিত। দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকারের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও জলের মতো কেজরিওয়ালের প্রকল্পকে উপহাস করেছে বিজেপি। কারণ তাদের কাছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ৩৭০ ধারা বাতিল, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া এবং দুমদাম 'বন্দে মাতরম' ও 'ভারত মাতা কি জয়' বলে স্লোগান দেওয়াই একমাত্র দেশপ্রেম।

শিবসেনার মুখপত্রের মতে, দেশপ্রেমের আরও ভাল রূপ উন্নততর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা। অভাবীদেরকে বিদ্যুৎ, জল এবং আশ্রয় দেওয়া। যা " কেজরিওয়াল করে দেখিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, 'দু'বছরে দুই কোটি লোক চাকরি হারালে তাকে কি দেশপ্রেম বলা যায়?' সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, দিল্লির ভোটের ফল দেখিয়ে দিয়েছে, মোদী-শাহ আর অজেয় নয়। শুধু মোদী-শাহ'ই নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারে, এই ধারনা কাটিয়ে বের হতে হবে জনগণকে।