সিএএ-কে সমর্থন করুন। এনআরসি দরকার। এই আবেদনই তিনি মুসলিমদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এমনকী, তাঁর এই বার্তা পৌঁছেছিলো বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় বসবাসকারী মুসলিমদের কাছেও। পরিণামে এই মানুষটি এখন নিজের প্রাণ নিয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত। কারণ তাঁর উপরে ইতিমধ্যে একাধিক প্রাণঘাতী হামলা হয়ে গিয়েছে। রোজ আসছে প্রাণে মেরে দেওয়ার হুমকি। শেষপর্যন্ত উপায় না পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন এই মুসলিম মৌলবী। ম্যাঙ্গোলোর পুলিশের কাছে তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কা-র কথা প্রকাশ করে ডিজিপি-র কাছে আবেদন করেছেন। 

আরও পড়ুন- 'মুর্শিদাবাদের হিন্দুরা বাংলাদেশের হিন্দুদের মতোই থাকে', বিস্ফোরক দাবি মোহিত রায়-এর 

কন্নড় ভাষায় এক নম্বর ডিজিটাল নিউজ মিডিয়া সুর্বণা নিউজ-এ এই খবর ব্রেক হতেই এখন চাঞ্চল্য পড়েছে দেশে। বিশেষ করে কর্ণাটক ও কেরল এই নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই মৌলবীর নাম খাজি তহওকা আহমেদ মুসলিয়ার। যিনি দক্ষিণ কর্ণাটকের উদুপ্পি, চিকমাগালুরু এবং কেরলের কাসারাগুরু অঞ্চলে-র খাজি অথবা মৌলবী হিসাবে দায়িত্ব সামলান। এছাড়াও তহওকা আহমেদ মুসলিম সমাজের একাধিক উচ্চ-পর্যায়ের সংগঠনের উচ্চপদে নির্বাচিত। মুসলিম সমাজে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব এবং প্রতিপত্তি রয়েছে। তাঁকে একজন নিষ্ঠাবান মুসলিম এবং ইসলামের সেবক বলেও সাধারণ মানুষ চিহ্নিত করে। 

আরও পড়ুন- চিকিৎসক থেকে সাঁতার প্রশিক্ষক, হিন্দু উদ্বাস্তুদের জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছেন সকলে 

এহেন মানুষটি যখন অখণ্ড ভারতের ভাবনা এবং সিএএ-র মতো বিষয়কে সমর্থন জানান তখনই তাঁকে মুসলিম বিরোধী ব্র্যাকেটের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছেন বলেও প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সিএএ এবং এনআরসি নিয়ে দেশজুড়ে যে ভুলবোঝাবোঝির একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে তার যথেষ্টই বিরোধী খাজি তহওকা আহমেদ। 

আরও পড়ুন- অপহরণ থেকে খুন, জানুন পাকিস্তান-বাংলাদেশে হিন্দুদের সঙ্গে হওয়া অত্যাচারের কাহিনি

যারা সিএএ বিরোধী ভাবকে উসকাচ্ছেন তাঁরা আসলে অখণ্ড ভারতের ভাবনা-কেই পদদলিত করছেন বলেও তিনি মনে করেন। সেই কারণ তিনি মুসলিম সমাজের কাছে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়ে এসেছেন বারবার। এমনকী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান থেকে শুরু করে আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা যেখানেই তাঁর পরিচিত মুসলিমরা রয়েছেন তাঁরা যাতে ভারতের পাশে দাঁড়ায় সেই আবেদন করেছিলেন তিনি। 

দেখুন- কন্নড় ভাষায় ১ নম্বর ডিজিটাল মিডিয়া সুর্বণা নিউজের ব্রেক হওয়া এই খবর 

প্রাণঘাতী হামলার পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন কেরলের একটি মালায়ালম ভাষার একটি টেলিভিশন নিউজ চ্যানেল খাজির বক্তব্যের বিরুদ্ধে একটি খবর পরিবেশন করে। এমনকী খাজি তহওকা-র অভিযোগ ওই টেলিভিশন নিউজ চ্যানেলের তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করে দেখানো হয়েছিল। তাঁকে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কুকুর বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল। খাজি তহওকা তাঁর বিরুদ্ধে এই প্রচারকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং ধর্মীয়ভাবাবেগ-কে আঘাত এবং উসকানোর অভিযোগ করেছেন। প্রাণঘাতী হামলার শিকার এবং প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পর-ই তিনি ম্যাঙ্গালোরের কাদরি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর ছেলে হুসেন-ও দাগী টেলিভিশন নিউজ চ্যানেলটি-র বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।