১০ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হল বহিষ্কৃত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেনগার। ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের উন্নাও-তে এক মহিলাকে ধর্ষণ করেছিল সে। মামলা চলাকালীন নির্যাতিতার বাবাকে হত্যা করে সে। সেই অপরাধের শাস্তি হিসাবেই তাকে ১০ বছরের জন্য জেলে পাঠানো হল। শুধু তাই নয়, কূলদীপ ও তার ভাই অতুল সেনগার-কে ১০ লক্ষ টাকা করে নির্যাতিতার পরিবার-কে ক্ষতিপূরণ-ও দিতে হবে। ইতিমধ্যেই গত ডিসেম্বরে তাকে ওই ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ডের সাজা দেওয়া হয়েছিল।  

উন্নাও ধর্ষণ মামলার ঘটনা গোটা দেশে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। শুধু ধর্ষণ নয়, যেভাবে এই মামলায় প্রমাণ লোপাটেরর চেষ্টা করা হয়েছিল, বিশেষ করে বিধায়ক থাকার ক্ষমতাকে ব্যবহার করে, তার খুব একটা নজির দেখা যায় না। নির্যাতিতার বাবা-কে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে হত্যা করা হয়। এমনকী কুলদীপ সেনগার কারাগারে থাকাকালীন নির্যাতিতা-কেও হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল, ভুয়ো দুর্ঘটনা ঘটিয়ে। সেই ঘটনায় নির্যাতিতা প্রাণে বেঁচে গেলেও তার দুই আত্মীয়ের মৃত্যু হয়েছিল।

এদিন এই মামলার সাজা ঘোষণা করে বিচারক  'একজন শক্তিশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে লড়াই' করার জন্য নির্যাতিতার প্রশংসা করেছেন। তাঁর ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল, সেগুলিকেও খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিচারক অভিযোগপত্র দাখিলে বিলম্বের জন্য সিবিআই-এর কড়া  সমালোচনা করেছেন।

উন্নাও জেলার বাঙ্গেরমৌ আসন থেকে চারবারের বিজেপির টিকিটে বিধায়ক হয়েছিল কুলদীপ সেনগার। ধর্ষণ মামলার অভিযোগ ওঠার পরও দীর্ঘদিন তাকে দলে রেখে দিয়ছিল বিজেপি। ২০১৯ সালের অগস্টেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ধর্ষণের মূল মামলাটিতে গত বছর ডিসেম্বরে তাকে যাবজ্জীবন ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে নির্যাতিতার বাবাকে মিথ্যা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র মামলায় ফাঁসানো, বিচার বিভাগীয় হেফাজতে তার মৃত্যু, দুর্ঘটনার মামলায় ষড়যন্ত্র এবং আরও তিনজনের সঙ্গে পৃথক গণধর্ষণ মামলা ছিল তার বিরুদ্ধে।