হিন্দু ধর্মের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সংস্কৃতি, আজ থেকে ৬,০০০ হাজারেরও বেশি বছর ধরে যা বিকাশ লাভ করে চলেছে পুণ্যভূমি ভারতে। হিন্দু ধর্মের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ভাগ, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য শৈব, বৈঞ্ষব, শাক্ত, বেদ এবং তান্ত্রিকবাদ। হিন্দুধর্মের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বিভিন্ন আদিবীসা সম্প্রদায়ের রীতি-নীতিও, যাকে  বর্তমান সময়ে আলাদা ভাবে খুঁজে বার করা খুবই কঠিন কাজ। হিন্দুধর্মের মধ্যে রয়েছে নানা দর্শন। এই দর্শনের মধ্যে রয়েছে যোগ, ন্যায়, সমক্ষ, বৈশেশিকা, মিমাংসা এবং বেদান্ত।

হিন্দুত্ব যেন সন্তানের মত। আমাদের ন্যায়-নীতি. মতাদর্শ হল আদি ও অনন্ত। বেদ থেকে ভগবত গীতা যা আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে রচিত হয়েছে তারমধ্যে রয়েছে তার্কিক আলোচনার রসদ।  আমাদের দর্শন গড়ে উঠেছে একে ভিত্তি করেই। তা সত্বেও, আমারা অন্য ধর্মের চেয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠ দাবি করি না। আমাদের মহাকাব্যগুলি অন্য ধর্মকে আক্রমণ না করেই তৈরি হয়েছে, যেখানে জীবনের উদ্দেশ্যের রহস্যের উন্মোচনের চেষ্টা করা হয়েছে।  

হিন্দুধর্ম চূড়ান্তভাবে নমনীয় ও অভিযোজিত। এর মধ্যে বিভিন্ন ঐতিহ্য থাকা  দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত বিস্তৃত। হিন্দু ধর্ম কখনও ধর্মান্ধ ছিল না।   ধর্মগ্রন্থ কেবল শিক্ষার একটি নির্দিষ্ট সংকলন প্রচার করে। হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে আমাকে যা অবাক করে তা হ'ল এর নমনীয়তা এবং অভিযোজনযোগ্যতা। পরিবর্তিত সময়ের সাথে এটি পরিবর্তিত হয়। তবে এটি তার সারাংশ বা এর মূল মানগুলিকে হারায়নি। হিন্দু ধর্ম অস্থির প্রকৃতি, চঞ্চল মানসিকতা এবং আমাদের চারপাশের পরিস্থিতি কত সহজেই পরিবর্তিত হয় তা উপলব্ধি করে । হিন্দু ধর্ম সত্যকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয় এবং সর্বদা আমাদের পরিস্থিতি যাই হোক না কেন সত্যের জন্য সংগ্রাম করতে বলে, কারণ সত্য সব্যদা অপরিবর্তনীয় এবং স্থায়ী। এটি নিয়ন্ত্রণের জন্য হিন্দু ধর্মের কোনও কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব নেই বা প্রয়োজন নেই। সুতরাং, আপনি চাইলে আপনি হিন্দু হতে পারেন, আপনার কারও অনুমোদনের দরকার নেই। হিন্দু ধর্মেও আচরণবিধি নেই। আপনি পাশাপাশি নাস্তিক হতে পারেন, তবুও আপনি হিন্দু থাকতে পারেন।

হিন্দু ধর্ম বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ এবং সহনশীল ধর্ম। হিন্দু ধর্ম একটি সম্মিলিত ধর্ম হওয়ার কারণে, পৃথিবীতে অন্য কোনও ধর্মের সাথে কখনও কোনও সমস্যা হয়নি, যা প্রতিষ্ঠাতার নির্দিষ্ট শিক্ষার উপর ভিত্তি করে। হিন্দু ধর্ম যতটা বিস্তৃত তত বিস্তৃত ধর্মীয় ও দার্শনিক ভিত্তি দেয়। এটি তার আধিপত্য ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার হুমকি দেয় না, বরং  শান্তভাবে অন্য সমস্ত ধর্মের সাথে সহাবস্থান করতে পারে। হিন্দুরা সম্ভবত একমাত্র জাতি, যারা বিশ্বাসের ভিত্তিতে অন্যান্য জাতির উপর আক্রমণ চালায়নি। এছাড়াও, ভুলে যাবেন না,  হিন্দু ধর্ম কীভাবে ১১০০ বছরেরও বেশি বার ইসলাম ও খ্রিস্টান নিপীড়নের স্বীকার হয়েছে ।

তবে  বিভিন্ন ধর্ম অনুসরণ করেও ভারতবাসীদের মধ্যে একতা রয়েছে। ভারত বিভক্ত হওয়া সত্ত্বেও সনাতন ধর্মিকরা অন্য ধর্মের লোকেদের সাথে তাঁদের আশ্রয়স্থল  ভাগ করে নিতে আপত্তি করেননি। আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যকে  বজায় রেখে আমরা এখনও আমাদের জমি, সম্পদকে বৈষম্য ছাড়াই সবার সাথে ভাগ করে নিই। এমনকি আমরা সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং "সংখ্যালঘু তোষন" শব্দের ব্যবহারে আপত্তি করিনা।

বিশ্বের সর্বাধিক প্রাণবন্ত এবং প্রভাবশালী ধর্ম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে হিন্দুধর্মের,  তবে এর জন্য আমাদের নিজেদের  শিকড়ের দিকে মনোনিবেশ করা দরকার। আমাদের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলিকে শক্তিশালী করা উচিত এবং শাস্ত্রে বর্ণিত মূল্যবোধ, জ্ঞান ও শিক্ষাগ্রহণ করা উচিত। সন্দেহ নেই, হিন্দু ধর্মই একমাত্র ধর্ম যা ক্রমাগতভাবে বিকশিত হয়েছে এবং এর সাথে অন্তর্নিহিত নমনীয়তা রয়েছে। তবে পরিবর্তিত সময়ের সাথে সাথে আমাদের আবারও একধাপ এগিয়ে যেতে হবে এবং আবারও একবার হিন্দুধর্মের পুনরুজ্জীবনের ব্যাপারে ভাবতে হবে।

আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অন্তর্নিহিত শক্তির দিকে তাকাতেই হবে। হিন্দুত্ববাদ একটি বিস্তৃত উপলব্ধি। এটি প্রতিক্রিয়াশীল নয় বরং আধুনিক বৈজ্ঞানিক সময়ের মুখোমুখি হওয়ার জন্য একটি স্ব-বিকশিত সর্বজনীন পদ্ধতি। এই বিশ্বে যখন সবাই করে অপরকে ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে তখন হিন্দুত্ব সহবস্থানের কথা বলছে। হিন্দু ধর্ম  সমস্ত ধর্ম, লিঙ্গ, সম্প্রদায়, জীবন, প্রকৃতি, নদী, সংস্কৃতি, বন, গাছ এবং এমনকি পোকামাকড়ের সাথে মিলন, সাম্যতা এবং ভারসাম্যের কথা বলে, যা  হিন্দু রাষ্ট্র গড়ে তোলার  জন্য অনন্য। হিন্দু হল  অহিংস জাতি যেখানে শান্তি, সংলাপ, যুক্তি এবং সমৃদ্ধি বিরাজ করে। এটি সবার জন্য মত প্রকাশ, পূজা, উপাসনা ও সমতা প্রচার করে।

বিক্রি হয়ে যাওয়া কোনও সংবাদ মাধ্যমের দ্বারা প্রভাবিত হবেন না। তাদের থেকে আমাদের কোনও সংশাপত্রের দরকার নেই। আসুন আমরা আমাদের কর্মের দিকে মনোনিবেশ করি এবং সত্য, অহিংসা, ধর্ম এবং রামরাজ্যের চিন্তা চারদিকে ছড়িয়ে দিই ! আসুন সকলে মিলে সমস্ত মানবজাতির জন্য সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করি !

অভিনব খারে সম্পর্কে কিছু কথা: 

অভিনব খাবের এশিয়ানেট নিউজ নেটওয়ার্কের সিইও, পাশাপাশি তিনি ডিপ উইথ একে  নামে একটি দৈনিক অনুষ্ঠানের হোস্টও। দুই ফুটফুটে  কন্যার গর্বিত বাবা, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে  বেঙ্গালুরুতে থাকন তিনি। বই এবং গ্যাজেটের প্রতি তাঁর বাড়তি শখ রয়েছে । ইতিমধ্যেবিশ্বেরশতাধিক শহরে ঘোরা হয়ে গিয়েছে তাঁর।

একজন প্রযুক্তিবিদ উদ্যোক্তা,যাঁর নীতি, প্রযুক্তি, অর্থনীতি থেকে শুরু করে প্রাচীন ভীরতের  দর্শনের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। তিনি ইটিএইচ জুরিখ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং-এ এমএস  করেন  এবং লন্ডন বিজনেস স্কুল থেকে ফিনান্সে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।