জল্পনাই সত্যি হল। করোনা যুদ্ধে লকডাউন বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ৩ মে পর্যন্ত সারা দেশে  লকডাউন বাড়ানো হল। মঙ্গলবার ২১ দিনের লকডাউন শেষে এই ঘোষণা করলেন নরেন্দ্র মোদী। জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে একথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী।

 এদিন মোদী জানান,  দেশের স্বার্থে সব রাজ্যই চেয়েছে লকডাউন বাড়ানো হোক। তাই করোনা মোকাবিলায় লকডাউ্নের কড়া নিয়ম মানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। আগামী এক সপ্তাহ কঠোর নিয়মে থাকার কথা বলেছেন প্রধানামন্ত্রী। ইতিমধ্য়েই বিভিন্ন শিল্পে লকডাউন শিথিল করার আবেদন জানিয়েছেন শিল্পপতিরা। শোনা যাচ্ছে, ২০ এপ্রিলের পর কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল হতে পারে।

করোনা যুদ্ধে নতুন গাইডলাইন আনছে কেন্দ্র, মারণ ভাইরাসকে হারাতে দেশবাসীকে ৭টি বান দিলেন মোদী.

 বুধবার এই বিষয়ে নতুন গাইডলাইন জানিয়ে দেওয়া হতে পারে। মূলত, দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মোদী। তবে বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, নিয়ম মানতেই হবে। বাহির বাইরে বেরোলে ঘরে তৈরি করা মাস্ক ব্য়বহার করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলায় ট্যুইট প্রধানমন্ত্রীর, সুস্থ থাকুন, লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী.

করোনা থাবা বসিয়েছে উন্নত বিশ্বে। আমেরিকার মতো দেশও আজ করোনা যুদ্ধে কাবু। এদিন নাম না করলেও উন্নত বিশ্বের সেই ভয়াবহতার কতা মনে করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ”অন্যান্য দেশের সঙ্গে সঙ্কটের সময় তুলনা করা উচিত নয়। তবু কিছু সত্যিকে অস্বীকার করা যায় না। অনেক দেশে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ভারত যদি ঠিক সময় ব্যবস্থা না নিত, তাহলে আজ ভারতের কী অবস্থা হত, সেটা ভেবেই আমি শিউড়ে উঠি। সবথেকে বড় কথা, ভারত সমস্যা বাড়ার জন্য অপেক্ষা করেনি। বরং আগে থেকেই সমস্যা দূর করার চেষ্টা করেছে। 

করোনাভাইরাস LIVE, লকডাউন চলবে ৩ মে পর্যন্ত, ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী.

এই বলেই থেমে থাকেননি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের মতো দেশে এই লকডাউনে অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব পড়ছে, এটা ঠিক। কিন্তু দেশবাসীর সুরক্ষার কাছে এই লোকসান কিছুই নয়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য় মন্ত্রকের পরিসংখ্যান বলছে,  দেশে মৃত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৯ । করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০ হাজার। ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৩১ জনের। দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ৩৬৩ জন। এর মধ্যে ৩৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১০৩৫ জন হয় সেরে উঠেছেন, নাহলে অন্য জায়গায় চলে গিয়েছেন। যার জেরে দেশে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯৮৮ জন।