করোনাভাইরাস মহামারি রুখতে প্রত্যাশিতাভাবেই দেশব্যাপী লকডাউনের মেয়াদ তৃতীয়বারের জন্য বাড়ানো হল। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ এনডিএমএ রবিবার জানিয়ে দেয়, কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে দেশে অন্তত আরও ১৪ দিনের জন্য লকডাউন ব্যবস্থা কার্যকর করা দরকার। তবে একইসঙ্গে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে চালু করার বিষয়টি বিবেচনায় করে চতুর্থ দফার লকডাউনে আরও বেশ কিছু শিখিলতা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কোভিড লড়াইয়ে রাজ্য প্রশাসনগুলির হাতে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে এদিন সন্ধ্যায় নয়া লকডাউন গাইডলাইন প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

এই নয়া গাইডলাইন অনুসারে স্কুল, কলেজ, অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল, রেস্তোঁরা এবং মেট্রোরেল পরিষেবা এখনও নিষিদ্ধই থাকছে। তবে যাত্রী পরিবাহী যানবাহন ও বাসের আন্তঃরাজ্য চলাচলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির পারস্পরিক সম্মতিতে অনুমতি দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে নতুন রেড, অরেঞ্জ এবং গ্রিন জোন চিহ্নিত করার ক্ষমতাও রাজ্য প্রশাসনের হাতেই দেওয়া হয়েছে। জরুরী চিকিৎসা পরিষেবা ব্যতীত লকডাউনের চতুর্থ  দফাতেও বিমানে ভ্রমণ বন্ধই থাকবে। লকডাউন বিধি লঙ্ঘনের জন্য অপরাধ ও জরিমানা সম্পর্কেও মন্ত্রকের গাইডলাইনে পরিষ্কার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণার আগেই অবশ্য রাজ্যভিত্তিক লকডাউন বাড়িয়েছিল অনেকগুলি রাজ্য। এরমধ্যে আছে, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, মণিপুর, পঞ্জাব ইত্যাদি। এই রাজ্যগুলির সরকার কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় লকডাউন ৩১ মে পর্যন্তই বাড়িয়েছিল। কর্ণাটক সরকার অবশ্য লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়েছিল মাত্র ২ দিন।

এদিন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, ভারত সরকার, রাজ্য সরকার এবং রাজ্য প্রশাসনগুলিকে চিঠি দিয়ে কোভিড-১৯ রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরও ১৪ দিনের জন্য লকডাউন প্রোটোকল বজায় রাখার অনুরোধ করেছিল। তাদের সেই আবেদনের পরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তৃতীয়বারের জন্য বৃহত্তম গণতন্ত্রে লকডাউন আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।