শনিবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। আর মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটেয় ছাড়লেন সেই পদ। অর্থাৎ মাত্র ৭৮ ঘন্টা টিকল বিজেপি-অজিত পওয়ারের এনসিপির সরকার। এদিন প্রথমে অজিত পওয়ার উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে অস্তফা দেন। তারপরই দিল্লিতে জরুরি বৈঠকে বসেন  নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ ও জেপি নাড্ডা। তারপর বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল মঙ্গলবারই বিকেল সাড়ে তিনটেয় সাংবাদিক সম্মেলন করবেন মহারাষ্ট্রের মুখ্য়মন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তখনই দেওয়ালের লিখনটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে এসে প্রথমেই দেবেন্দ্র ফড়নবিশ জানিয়ে দেন, তাঁরা ভোট লড়েছিলেন শিবসেনার সঙ্গে জোট গড়ে। কিন্তু ভোটের পর শিবসেনা সেই জোট ভেঙে দেয়। তারপরেও একক বৃহত্তম দল হিসেবে বিজেপিকেই সরকার গড়তে ডেকেছিলেন রাজ্যপাল। কিন্তু তাঁরা জানিয়েছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই তাঁদের সঙ্গে। তাই তাঁরা সরকার গড়তে চান না।

এরপর শিবসেনা, এনসিপি-কে ডারকা হলেও তারাও সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে পারেনি। তারপর অজিত পওয়ারের সমর্থন পেয়ে তাঁরা সরকার গঠন করেছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরে অজিত তাঁকে জানান, কিছু অসুবিধার জন্য তিনি এনসিপি বিধায়কদের আস্থাভোটে তাঁদের সরকারকে সমর্থন দেওয়াতে পারছেন না। কাজেই সরকার টেকানো সম্ভব হবে না। এরপরই মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন অজিত।

কাজেই বিজেপি এখন ফের সরকারিভাবে ১৭৪ থেকে কমে ১২০তে নেমে গিয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই বলেই তিনি পদত্যাগ করছেন বলে জানিয়ছেন ফড়নবিশ। সাংবাদিক সম্মেলনের পরই তিনি রাজ্যালের কাছঠে গিয়ে অস্তফাপত্র জমা দেবেন।

৭৮ ঘনটায় সরকারে পতন হওয়ায় বলাই বাহুল্য মুখ পুড়ল বিজেপির। তবে তার মধ্যেই পুরোনো সঙ্গী শিবসেনাকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি ফড়নবিশ। তাঁর অভিযোগ শিবসেনার এতই ক্ষমতার লোভ যে, সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে হাত মেলাতেও দ্বিদা করছেন না তাঁরা।