গত ২৮ মার্চ দিল্লি-গাজিয়াবাদ সীমান্তের আনন্দ বিহার বাস স্ট্যান্ডে প্রায় কয়োকশো পরিযায়ী শ্রমিক ভিড় জমিয়েছিলেন। সামান্য কিছু বাসে জায়গা করে নিয়ে নিজ রাজ্যে ফিরে যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন তাঁরা। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) লকডাউনের সময় আরও ১৯ দিন বাড়ানো হয়েছে। এদিন আনন্দ বিহারের দৃশ্য দেখা গেল মুম্বই-এর বান্দ্রা বাস স্টেশনে।

নিজ রাজ্যে ফিরে যাওয়ার অনুমতির দাবি নিয়ে রাস্তায় নামলেন বহু সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিক। বান্দ্রার রাস্তায় থাকল না কোনও লকডাউন বিধি, থাকল না সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা। তাঁদের একটাই দাবি, নিজের বাড়ি ফিরে যাবেন, তারপর লকডাউন ইত্যাদি সব হবে। নাহলে, শহরে বিনা রোজগারে পড়ে থাকলে করোনার দরকার হবে না, না খেয়েই মরবেন তাঁরা।

পরে অবশ্য পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এসে তাঁদের বোঝান। ভাইরাসটি কতটা ভয়ঙ্কর তাদের বুঝিয়ে ওই এলাকা খালি করতে বলা হয়। কিন্তু, তাতে কাজ হয়নি। শেষে বাধ্য হয়ে পুলিশ হাল্কা লাঠি চার্জ করে। তাতেই ছত্রভঙ্গ হয়ে যান পরিযায়ী শ্রমিকরা।

ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, হাজার হাজার করোনাভাইরাস এবং সামাজিক দূরত্ব সম্পর্কে সরকারি সতর্কবাণীকে উড়িয়ে ওই অঞ্চলে জড়ো হয়েছেন। তাঁদের নিজ নিজ রাজ্যে পৌঁছে না দেওয়ার ব্যবস্থা করলে তাঁরা ওখানেই বসে থাকবেন বলেও হুমকি দেন প্রতিবাদী পরিযায়ী শ্রমিকরা।


করোনা মোকাবিলায় 'ফুলমার্কস' পাননি মোদী, অক্সফোর্ড-এর জবাবে মুখ পুড়ল বিজেপি-র

রাস্তায় গড়ানো দুধ একইসঙ্গে চাটছে মানুষ ও কুকুর, করোনায় প্রকট অনাহারের যাতনা, দেখুন

সামাজিক দূরত্ব কতটা প্রতিরোধ করছে করোনাভাইরাস-কে, দেখে নেওয়া যাক বিভিন্ন দেশের ছবিটা

দেশব্যাপী লকডাউন ৩ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবারই সকালে এই কথা ঘোষণা করেছেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের, বেশিরভাগই দিন মজুর। গত তিন সপ্তাহের লকডাউনের সময়টায় তাদের একটা পয়সাও আয় হয়নি। লকডাউনে তারাই সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পরিবহণের অভাবে অনেকেই ভারতের বড় বড় শহরে আটকে গিয়েছেন। গ্রামে বাড়িতে তাও ক্ষেতের সবজি, পুকুরের মাছ ধরে খেয়ে বাঁচতে পারতেন, কিন্তু, শবরে পড়েছেন তীব্র অনাহারের মুখে।

এদিন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী গত একমাসের মধ্যে চতুর্থবার টিভিতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। প্রথমবার দিয়েছিলেন জনতা বনধ-থালা বাজানোর ডাক, দ্বিতীয়বার আচমকা মধ্যরাত থেকে লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন, তৃতীয়বার ছিল মোম-প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বান, আর এদিন লকডাউন বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন। কিন্তু, একবারও দেশের অন্যতম চালিকাশক্তি এই পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা তাঁর মুখে শোনা যায়নি। তাঁদের এই নিদারুণ দুর্ভোগ লাঘবের কোনও দিশা দেখানো তো দূর, সহমর্মিতাও প্রকাশ করেননি তিনি।