নির্বাচনের আগেই বাংলায় আসতে চলেছে কেন্দ্রের সাহায্য। আমফান বিপর্যয় সামলাতে পশ্চিমবঙ্গকে অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। শুক্রবার মন্ত্রকের এক উচ্চস্তরের বৈঠকে এই বিরাট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি উচ্চস্তরের কমিটি এই বিষয়ে বৈঠকে বসেছিলেন। বৈঠকে, বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য ৪,৩৩১.৮৮ কোটি টাকার অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে এই পুরো টাকাটাই পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়। আমফানে বাংলার পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়েছিল ওড়িশাও। আমফানের দিন কয়েক পরই আবার নিস্বর্গ সাইক্লোন আছড়ে পড়েছিল মহারাষ্ট্রের বুকে। এছাড়া, গত কয়েক মাসে বন্যা ও ভূমিধস দেখা গিয়েছে কর্নটক, মধ্যপ্রদেশ ও সিকিমে। এদিনের অনুমোদিত তহবিল এই বিপর্যয়গ্রস্ত ৬ রাজ্যের মধ্যে প্রয়োজন অনুসারে ভাগ করে দেওয়া হবে।

২১ মে নবান্ন থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন ধ্বংস হয়ে গিয়েছে অর্ধেক বাংলা। তার একদিন আগেই বিধ্বংসী আমফান ঘুর্ণিঝড়ে তছনছ হয়ে গিয়েছিল কলকাতা, হাওড়া, দুই চব্বিশ পরগণা, দুই মেদিনীপুর-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলা। পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ৮৬ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল সেই ভয়াবহ সুপার সাইক্লোনের দাপটে। আর সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছিল, রাজ্য সরকারের হিসাবে ১ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের। বিপর্যয়ের পরপরই রাজ্যে পরিদর্শনে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সময়ে তিনি ১০০০ কোটি টাকার অগ্রিম সহায়তার কথা ঘোষণা করেছিলেন।

আমফান বিপর্যয়ের সহায়তার অর্থ নিয়ে, পরবর্তী ক্ষেত্রে অবশ্য বাংলার শাসক দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক দুর্নীতি ধরা পড়েছিল। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বদলে তৃণমূলের নেতারা সেই অর্থ লুন্ঠন করেছে বলে বারবার অভিযোগ করেছে বিরোধী দলগুলি। এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের একবার কেন্দ্রের সহায়তা নিয়ে রাজদ্য রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।