সোমবার সকালে করাচির পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়ে হামলা চালিয়েছিল চার বন্দুকবাজ। সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি। এবার পাকিস্তানের বন্দর শহর সেই কারচি থেকে মুম্বইয়ের তাজ হোটেল উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ফোন এল। করাচিতে জঙ্গি হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিতেই এই ফোন বলে জানা যাচ্ছে। 

আরও পড়ুন: শুরু হয়ে গেল ভার্চুয়াল যুদ্ধ, গুগল প্লে স্টোর আর অ্যাপেল অ্যাপ স্টোর থেকে এবার উধাও টিক টক

২০০৮ সালে মুম্বই হামলা এখনও পর্যন্ত ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলা। সেবার তাজ  হোটেল থেকেই আত্মগোপন করে দীর্ঘক্ষণ হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান থেকে আসা জঙ্গিরা। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া তাজ হোটেলের গম্বুজের ছবি সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের প্রতিবিম্ব হয়ে ওঠে। তারপর এত বছর কেটে গেলেও সেই হামলার ক্ষত স্মৃতি এখনও দগদগে মুম্বইবাসীর মধ্যে। তাই ফের সন্ত্রাসবাহী হামলার হুমকি দিয়ে ফোন আসায়  ২৬/১১ পুনরাবৃত্তির আশঙ্কায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাণিজ্য নগরীতে। 

 

বোমা মেরে মুম্বইয়ের তাজ হোটেল উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে লস্কর জঙ্গিরা। পাকিস্তান থেকে হুমকি ফোন আসার পরই আতঙ্ক  গ্রাস করেছে বানিজ্যনগরীকে। ইতিমধ্যে টাটা গোষ্ঠীর দুটি হোটেলে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।

আরও পড়ুন: দেশে সুস্থতার হার বৃদ্ধি পেয়ে হল ৫৯ শতাংশ, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা জয়ী হলেন ১৩ হাজারের বেশি

জানা যাচ্ছে, সোমবার রাত সাড়ে ১২ টা নাগাদ মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাসের কাছে অবস্থিত তাজমহল প্যালেস ও বান্দ্রার তাজ ল্যান্ডস এন্ডে  হুমকি ফোন আসে। নিজেকে লস্কর জঙ্গি বলে দাবি করা এক ব্যক্তি দুটি হোটেলকেই বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে নম্বরটি ট্র্যাক করে জানা যায়, ফোন এসেছিল পাকিস্তানের করাচি থেকে। যে ব্যাক্তি ফোন করেছিল সে লস্কর-ই-তইবার সদস্য বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের স্টক এক্সচেঞ্জে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার দিনই এই হুমকি ফোন রীতিমতো আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। যে ফোন করেছিল সে জানিয়েছে, করাচি স্টক এক্সচেঞ্জে যে আতঙ্কবাদী হামলা হয়েছে তা সারা পৃথিবী দেখেছে ৷ এবার ভারতে ফের  ২৬/১১-র কায়দায় আরও একবার হামলা হবে ৷

পাকিস্তান থেকে তাজ হোটেলে আসা এই হুমকি  ফোনের খবর মুম্বই পুলিশকে তড়িঘড়ি জানানো হয়। এই ফোনের খবরের পর তাজ হোটেল ও তার সংলগ্ন এলাকায় সুরক্ষা ব্যবস্থা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ রাতে এই ফোন আসার পর মুম্বই পুলিশ ও হোটেলের নিরাপত্তাবাহিনী পুরো হোটেলের সুরক্ষাব্যবস্থা খুঁটিয়ে দেখে ৷ এই হোটেলের সব বোর্ডার ও গেস্টদের সমস্ত তথ্য ফের একবার খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷ তবে করোনা মহামারির জেরে দুটি হোটেলই এখন মোটের উপর অতিথিশূন্য। এদিকে হুমকি ফোন আসার পর  দক্ষিণ মুম্বইকে নাকাবন্দি করে জোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে ৷

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর পাকিস্তান ১০ জন আতঙ্কবাদীকে বিশেষ ট্রেনিং দিয়ে মুম্বই ধ্বংস করার জন্য পাঠিয়েছিল ৷ সুমদ্র পথে এদেশে এসেছিল ও জঙ্গি দলটি। এরপর মুম্বইয়ের  ছত্রপতি শিবাজি রেলওয়ে টার্মিনাল, তাজ হোটেল, ট্রাইডেন্ট হোটেলর মত একাধিক জায়গায় হামলা চালিয়েছিল ৷এখনও পর্যন্ত এদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলির মধ্যে অন্যতম। এই হামলায় ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং আহত হয়েছিলেন ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ। মৃতদের মধ্যে ছিলেন মুম্বই এটিএসের যুগ্ম কমিশনার হেমন্ত কারকারে, অ্যাডিশনাল কমিশনার অশোক কামতে, ইন্সপেক্টর বিজয় সালাসকর, শশাঙ্ক শিন্ডে, এনএসজির মেজর সন্দীপ উন্নিকৃষ্ণণ, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সদস্য ও ৬ মার্কিন নাগরিক। সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতিকেই ফের তাজা করে দিল এই হুমকি ফোন। তবে সোমবার রাতে আসা ওই ফোনটি নিছকই উড়ো ফোন নাকি সত্যিই কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের হুমকি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।