উত্তরপ্রদেশের ফারুখাবাদের একটি গ্রামে ২০ জন শিশু এবং কয়েকজন মহিলাকে পণবন্দী করে রেখেছে খুনের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছেছেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকরা। ওই শিশু ও মহিলাদের উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে মহম্মদাাদের কাঠারিয়া গ্রামে। জানা গিয়েছে ওই দুষ্কৃতী সশস্ত্র। ইতিমধ্যেই পুলিশকে লক্ষ্য করে সে গুলি চালিয়েছে। এমনকী একটি হ্যান্ড গ্রেনেড-ও ছুড়েছে। এতে তিন পুলিশকর্মী এবং এক গ্রামবাসী আহত হয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা জানা গিয়েছে, মেয়ের জন্মদিনের পার্টি উপলক্ষ্যে ওই শিশু ও মহিলাদের নিজের বাড়িতে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিল ওই জামিনে বাইরে থাকা আসামি। তারপর আচমকাই তাদের পণবন্দী করে। তবে একটি সূত্রের দাবি অতিরিক্ত মদ্যপান করে মাতাল হয়েই সে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছুই এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, ওই খুনে আসামির নাম সুভাষ গৌতম। সে ওই শিশু ও মহিলাদের পণবন্দি করে কোনও বিধায়ক এবং পুলিশ সুপার-কে তার বাড়ির কাছাকাছি আসতে বলে। কিন্তু, সতীশচন্দ্র দুবে নামে এক গ্রামবাসী সাহহস করে তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যায়। এরপরই সুভাষ গৌতম তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়, যা সতীশের পায়ে আঘাত করে। তাকে কাছের এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও গ্রেনেড ছোড়ায় আরও তিন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। এসপি ও এএসপি-সহ পদস্থ পুলিশকর্তাদের নেতৃত্বে বাড়িটি ঘিরে রেখেছে বিশাল পুলিশবাহিনী। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ফারুখাবাদ-এর এই ঘটনার বিষয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন।

এডিজি (আইন শৃঙ্খলা) পিভি রামশাস্ত্রি জানিয়েছেন, একটি খুনের মামলায় ওই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আপাতত সে জামিনে জেলের বাইরে ছিলেন। মেয়ের জন্মদিনের পার্টির অজুহাতে শিশুদের সে ডেকে এনে পণবন্দী করে। গ্রামবাসীরা উদ্ধার করতে গেলে তাদের উপর গুলি চালায়। ডিএম, এসএসপি ও বিশাল পুলিশবাহিনী বাড়ির আশপাশে উপস্থিত রয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলছে। কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) এবং স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) টিম রয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াড (এটিএস)-ও রয়েছে।