ছয় সপ্তাহে তিন বার পিছিয়ে ফাঁসির দিন। অবশেষে আগামী ২০ মার্চ চতুর্থবারের জন্য নির্ভয়ার ধর্ষকদের জন্য ফাঁসির দিন খার্য করেছে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট। অতিরিক্ত দায়রা বিচারক ধর্মেন্দ্র রানা বৃহস্পতিবারই সেই মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছেন। আর শুক্রবারই চার ধর্ষক ও খুনি ফাঁসি থেকে বাঁচতে নতুন এক উপায় নিল। শুক্রবার দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টে মুকেশের ভাই সুরেশের পক্ষ থেকে একটি আবেদন করা হয়েছে। আইনজীবী এম এল শর্মা এই আবেদন করেছেন। 

আইনজীবী শর্মা অভিযোগ করেছেন মুকেশের জন্য আদালত দ্বারা নিযুক্ত আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার তার উপর চাপ সৃষ্টি করে  কিউরেটিভ পিটিশনের আবেদন করিয়েছিলেন। এম এল শর্মার দাবি মতো, কিউরেটিভ পিটিশন দায়েরের সময় তিন বছর ছিল। সেই সম্পর্কে মুকেশকে জানানো হয়নি। সেই কারণে মুকশকে নতুন করে কিউরেটিভ পিটিশন ও  ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হোক। আগামী ৯ মার্চ এই আবেদনের শুনানি হতে পারে। এদিকে বৃহস্পতিবারই নির্ভয়ার চার ধর্ষকের জন্য নতুন করে ফাঁসির দিন ধার্য করেছে আদালত। সেই অনুযায়ী ২০ মার্চ ভোর সাড়ে পাঁচটায় ৪ অপরাধী মুকেশ সিং, অক্ষয় ঠাকুর, বিনয় শর্মা ও পবন গুপ্তার ফাঁসি হওয়ার কথা। 

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রদেশে ঘিরে অব্যাহত নাটক, এবার খুনের আশঙ্কা প্রকাশ বিজেপি বিধায়কের

পবন গুপ্তার ক্ষমাভিক্ষার আর্জি রাষ্ট্রপতি খারিজ করার পর ফাঁসির নতুন দিন ঘোষণার আবেদন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তিহার জেল কর্তৃপক্ষ। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার ফাঁসির নতুন দিন ধার্য করেন বিচারক। এর আগে তিন বার মৃত্যুর পরোয়ানা জারি হওয়া সত্ত্বেও শেষ মুহুর্তে ফাঁসি পিছিয়ে গিয়েছে। কোনও বার তার কারণ ছিল সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা কিউরেটিভ পিটিশন, কোনাও বার রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো ক্ষমাভিক্ষার আর্জির নিষ্পত্তি না হওয়া। মনে করা হচ্ছিল পবনের আর্জি রাষ্ট্রপতি খারিজ করে দেওয়ার পর চার অপরাধীর কাছে আর কোনও আইনি বিকল্পের পথ খোলা রইল না। কিন্তু প্রাণ বাঁচাতে পুরনো আইনজীবীর উপর অভিযোগের আঙ্গুল তুলে এবার নতুন আইনজীবীকে দিয়ে শীর্ষ আদালতের কাছে কিউরেটিভ পিটিশন দাখিলের আবেদন জানাল নির্ভয়ার ধর্ষক ও খুনি মুকেশ সিং। 

আরও পড়ুন: শ্মশানে হোলি খেলেন মহাদেব, রীতি মেনে বারাণসীতে আবিরের সঙ্গে মিশল চিতাভস্ম, দেখুন ভিডিও

মুকেশ সিং, অক্ষয় ঠাকুর, বিনয় শর্মা ও পবন গুপ্তার মৃত্যুর পরোয়ানা প্রথমবার জারি হয় ৭ জানুয়ারি। সেই মত ২২ জানুয়ারি ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল। তির পর আরও দুবার ফাঁসির দিন ধার্য হয়েও ফাঁসি হয়নি। এদিকে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে মুকেশের রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। কিন্তু আইন মোতাবেক তার ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ট  কিউরেটিভ পিটিশন ও  ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলে দাবি করছেন মুকেশের আইনজীবী।