চতুর্থবারের জন্য নির্ভয়া কাণ্ডের চার আসামির নামে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করল দিল্লি হাইকোর্ট। আগামী ২০ মার্চ ভোর সাড়ে ৫টায় একসঙ্গেই ফাঁসি দেওয়া হবে পবন, অক্ষয়, বিনয় ও মুকেশ - ২০১২ সালের গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার এই চার আসামি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি-কে।

এর আগে ১ মার্চ ভোর ৬টায় এই চার আসামির ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, অন্যতম আসামি পবন ২৯ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ফাঁসির নির্ধারিত তারিখের ঠিক আগের দিনই সুপ্রিম কোর্টে কিউরেটিভ পিটিশন দাখিল করেন এবং তার কয়েক ঘন্টা পরই আবার রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছিল। সুপ্রিম কোর্ট ওইদিনই চার আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। তারপর বুধবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ-ও তাঁর প্রাণভিক্ষার আবেদন ফিরিয়ে দেন। তারপরদিনই নতুন করে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হল। 

একই ভাবে এর আগে মুকেশের আবেদনে পিছিয়ে গিয়েছিল ২২ জানুয়ারির নির্ধারিত ফাঁসির দিন, বিনয়ের আবেদনে পিছিয়ে গিয়েছিল স্থগিতাদেশ জারি হয়েছিল ১ ফেব্রুয়ারির মৃত্যু পরোয়ানায়। এবার আর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার বিষয়ে কোনও আইনি কাঁটা বাকি নেই। তবে এখনও একটি আইনি প্রতিকার বাকি আছে পবনের হাতে। রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনার জন্য সে আবেদন করতে পারে সুপ্রিম কোর্টে। তারপর আর ফাঁসি পিছিয়ে দেওয়ার কোনও সম্ভাবনা থাকবে না তাদের হাতে।

অতিরিক্ত দায়রা বিচারক ধর্মেন্দ্র রানার এজলাসে দিল্লি সরকার এদিন জানায়, যে আসামিদের সমস্ত আইনি প্রতিকারের পথ ফুরিয়েছে। আসামি পক্ষের আইনজীবীও আদালতে জানান মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার তারিখ নির্ধারণের জন্য আদালতের পক্ষে কোনও আইনি বাধা নেই। দিল্লির তিহার কারাগার কর্তৃপক্ষ এদিন আদালতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য নতুন তারিখ চেয়েছিল।

নির্ভয়ার মা আশা দেবী এদিন আদালতের রায়ের পর জানান, 'আশা করি এটিই চূড়ান্ত তারিখ এবং ২০ মার্চই তাদের ফাঁসি দেওয়া হবে। মৃত্যুর সময় নির্ভয়া বলেছিল, যাতে এইরকম অপরাধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে তাদের সেইরকম শাস্তি দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে'। এর আগে ভারতের বিচার ব্যবস্থা নিয়েই বারবার প্রশ্ন তুলেতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।