বিচারক মৃত্য়ু পরোয়ানায় সই করার দু-বার পিছিয়েছে ফাঁসি। অবশেষে, ৩ মার্চ চূড়ান্ত হয় ফাঁসির দিন। কিন্তু  মনে করা হচ্ছে, এবাও পিছিয়ে যাবে ফাঁসির দিন। কারণ, দোষীদের মধ্য়ে অন্য়তম পবন গুপ্তা সেই পুরনো কৌশলেই ফাঁসি পিছিয়ে দিতে চাইছে। বাকি তিনজনের পর এবার পবন  ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার জন্য় কিউরেটিভ পিটিশন দাখিল করল পবন।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে কিউরেটিভ পিটিশন দাখিল করে আবেদন করা হয়, ফাঁসি নয়, বরং অপরাধীকে দেওয়া হোক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। প্রসঙ্গত, এই মাসের প্রথমেই পাতিয়ালা হাউজ কোর্ট নতুন করে দোষীদের মৃত্য়ু পরোয়ানায় সই করেছিল।

এদিকে, একজনের মৃত্য়ুদণ্ড পিছিয়ে যাওয়া মানেই কিন্তু বাকি তিনজনেরও পিছিয়ে যাওয়া। কারণ, একই অপরাধে যদি একাধিকজনের ফাঁসি হয়, তাহলে তাদের একসঙ্গেই ফাঁসিতে ঝোলাতে হবে, বলে দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। এর আগে তাই, একে একে বাকি তিনজন যখন কিউরেটিভ পিটিশনের আবেদন করেছিল, তখন সেই আবেদনের শুনানির কারণে পিছিয়ে গিয়েছিল অন্য়দের ফাঁসিও। মনে করা হচ্ছে, এইভাবে সুকৌশলে ফাঁসি পিছিয়ে দিতে চাইছে নির্ভয়াকাণ্ডের অপরাধীরা।

প্রসঙ্গত, এই যে একই অপরাধে দণ্ডিত অপরাধীদের একসঙ্গে ফাঁসি দিতে হবে, এর বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকার একটি পিটিশন ফাইল করে। সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি শুনানির জন্য় এই মুহূর্তে ঝুলে রয়েছে,   বিচারপতি আর ভানুমতী, অশোকভূষণ ও নবীন সিনহার বেঞ্চে। এই আবেদনে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্য়ালেঞ্জ করেছে। যে নির্দেশে বলা হয়েছে, একই অপরাধে দণ্ডিতদের একইসঙ্গে ফাঁসি দিতে হবে। আর তা না হলে, প্রয়োজনে ফাঁসির দিন পিছিয়ে যাবে।

এর আগেও বারবার এই কিউরেটিভ পিটিশনকে ঢাল করেই ফাঁসির দিন পিছিয়ে দিয়েছিল চার অপরাধী। এবারও তাই ঘটল। হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। এর মধ্য়ে যদি শুনানি হয়, আর আদালত পবন গুপ্তার আবেদন খারিজ করে দেয়, তবেই নির্ধারিত ৩ মার্চ ফাঁসি হবে। তবে তার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই, খুব সম্ভবত আবারও পিছোতে চলেছে ফাঁসির দিন।