দেশে বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা। পরিস্থিতি সামলদিতে দেশে চলছে দ্বিতীয় দফার লকডাউন। করোনা থাবা বসানোর আগে থেকেই দেশের অর্থনীতির গ্রাফ ছিল নিম্নমুখী। লকডানের পর তা আরও ঝিমিয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় অর্থনীতিকে সতল করতে প্রথম দফার লকডাউনের সময় আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। শোনা যাচ্ছে, দ্বিতীয় দফায়  আর্থিক প্যাকেজ নিয়েও আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এখন চাই প্রচুর অর্থের। আর সেই কারণেই সরকারি কর্মীদের বর্ধিত ডিও আপাতত দেড় বছরের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিলে কেন্দ্রীয় সরকার। 

কেন্দ্রীয় সরকার গত মাসে ৪ শতাংশ ডিএ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেকথা ঘোষণাও করা হয়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের জেরে লকডাউন পরিস্থিতিতে এবার কেন্দ্রীয় কর্মীদের ডিএ বা মহার্ঘ্যভাতায় কোপ দেওয়ার পথেই এগোল মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে চলতি বছর সরকারি কর্মীদের ডিএ বাড়ানো হচ্ছে না বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

সরকারি কর্মচারী ছাড়াও পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও ডিএ বাড়বে না। তবে পরবর্তী বছর আবার ডিএ বৃদ্ধির চিন্তাভাবনা করা হবে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে জানা যাচ্ছে। 

 

 

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ এর জুন পর্যন্ত দেড় বছর বর্ধিত মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে না। একই নিয়ম কার্যকর হবে পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও। ২০২১ সালের জুলাই থেকে যখন ডিএ দেওয়া হবে, তখন সংশোধিত হারে দেওয়া হবে। তবে কোনও বকেয়া দেওয়া হবে না।

রাষ্ট্রপতি ভবন ও সংসদের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, সংক্রমণের শিকার অসামরিক বিমান পরিবহন কর্মী

ষড়যন্ত্র করে আমেরিকার উপর করোনা হামলা, অভিবাসন বন্ধ করে তোপ দাগলেন ট্রাম্প

ফের কোরনা যোদ্ধাদের উপর হামলা, পুলিশ বাহিনীর দিকে ইঁট ছুঁড়ল উন্মত্ত জনতা, দেখুন ভিডিও

চলতি বছর মার্চ মাসে  ৪ শতাংশ ডিএ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তার ফলে ১৭ শতাংশ থেকে ডিএ বেড়ে হতে যাচ্ছিল ২১ শতাংশ। মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ৪৯.২৬ লক্ষ সরকারি কর্মী এবং ৬১.১৭ লক্ষ পেনশনভোগী বর্ধিত ডিএ থেকে বঞ্চিত হবেন। 

দেশে লকডাউনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। কাজ যেমন তাড়া হারিয়েছেন, তেমনি বাড়ি পিরতে পারেননি অনেকেই। লকডাউনের জেরে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের ত্রাণ শিবিরে আটকে রয়েছেন ১৮ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি সিসিইএ বৈঠকে  শীঘ্রই বৈঠকে বসতে চেলেছে। যা দ্বিতীয় দফার আর্থিক প্যাকেজের জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর্থিক প্যাকেজে পরিযায়ী শ্রমিকদের এককালীন আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। কেন্দ্র সরকার যে পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয় নিয়ে ভাবছে তা সাম্প্রতিকালে কেন্দ্রর তরফ থেকে তাদেরকে নিয়ে জারি করা নির্দেশিকা থেকেই প্রমাণ মিলেছে। 

লকডাউনে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ইতিমধ্যে  একাধিক পুনরুজ্জীবন প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। ফলে রাজকোষের হালও অত্যন্ত খারাপ। তার মোকাবিলায় এ বার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বর্ধিত ডিয়ারনেস অ্যালাওয়েন্স (ডিএ) বা মহার্ঘ্যভাতা দেড় বছরের জন্য বন্ধের ঘোষণা করল কেন্দ্র। বর্ধিত ডিএ দিতে কেন্দ্রীয় কোষাগার থেকে বাড়তি খরচ হত ১৪ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা।