দেশে ইতিমধ্যে করোনা সংক্রমণে সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে লকডাউনের সময়সীমা যে বাড়তে চলেছে সেই বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন প্রায় সকলেই। গত কয়েকদিন ধরেই লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর ইজ্ঞিত দিয়ে আসছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর ভিডিও কনফারেন্স বৈঠকেও লকডাউনের মেয়াদ যাতে দেশে আরও ২ সপ্তাহ বাড়ান হয় সেবিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যে ওড়িশা, তামিলনাড়ু, পঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্য ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউনও ঘোষণা করেছিল। মঙ্গলবার সকালের ভাষণে সেই পথেই হাঁটলেন প্রধানমন্ত্রী। জানিয়ে দিলেন করোনা যুদ্ধে আগামী ৩ মে পর্যন্ত লকডাউন চলবে সারা ভারত জুড়ে।
 

মানুষকে সচেতনতার পাঠ দিতে গত শনিবার মুখে মাস্ক পরে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স বৈঠকে সামিল হয়েছিলেন মোদী। এদিন জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণে তিনি মুখে গামছা  জড়িয়ে আসেন সকলের সামনে। করোনা মোকাবিলায় নতুন গাইডলাইন বানাচ্ছে তাঁর সরকার। বুধবার কেন্দ্রের তরফে সেই গাইডলাইন প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি নিজের ভাষণের শেষে  করোনাকে হারাতে এদিন আম জনতার হাতে ৭টি অস্ত্রও তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

 
দেশ থেকে করোনা দূর করতে সচেষ্ট রয়েছে প্রশসান। নিরন্তর কাজ করে চলেছেন জরুরী পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও। আর এই যুদ্ধে ঘরে বসে নানা অসুবিধা সহ্য করছেন সাধারণ মানুষও। সেই কথা মনে করিয়ে দেয়ই মারণ করোনাকে হারাতে ৭টি পরমার্শ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী।


করোনা যুদ্ধে অস্ত্র হোক গামছা, দেশবাসীকে পাঠ পড়ালেন খোদ প্রধানমন্ত্রী
আরও এক মাসের জন্য লকডাউন বাড়ল ফ্রান্সে, সমাধান অধরা, অসহায় স্বীকারোক্তি ম্যাক্রঁর
আসছে কি তবে 'সেকেন্ড ওয়েভ', চিনে নতুন করে করোনা সংক্রমণের বাড়বাড়ন্তে ঘনীভূত আশঙ্কার মেঘ

মেদীর দেওয়া পরামর্শরে মধ্যে সবার প্রথমে রয়েছে এই সময় বাড়ির বয়স্কদের বিশেষ খেয়াল রাখা। লকডাউনের ও  সামাজিক দূরত্ব অবশ্যই মেনে চলা। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর আর্জি। সেই জন্য ঘরে বানানো মাস্ক অবশ্যই পরতে হবে। খেতে হবে গরম জল। করনো নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে আরগ্য সেতু অ্যাপ এনেছে ভারত সরকার। নিজের মোবাইলে সেই অ্যাপ সকল দেশবাসীকে ডাউনলোড করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি গরিব পরিবারগুলির খেয়াল রাখার কথা বলেছেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে কারও যেন চাকরি না যায় সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি চেয়েছেন। এই পাশাপাশি করোনা মোকাবিলায় ফ্রন্টলাইনে থাকা কর্মীদের যথাযোগ্য সম্মান জানাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। 

 
আগামী এক সপ্তাহ এদেশে করোনা সংক্রমণের জন্য খুবই গুপুত্বপূর্ণ তা মনে কিরয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাই আগামী এক সপ্তাহ দেশজুড়ে কড়াকড়ি আরোও বাড়ান হবে। তারপরে সাময়িক কিছু ছাড় দেওয়া যেতে পারে কিনা সেই বিষয়টি চিন্তাভাবনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিমি। তবে এবার আগের থেকেও মেনে চলতে বেশি বেশি সতর্কতা। আর তাহলেই সীমিত সাধ্য নিয়েও বেশ্বজুড়ে ত্রাস তৈরি করা করোনাকে ভারতবাসী হারাতে পারবে বলেই স্বপ্ন দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।