গত একমাস ধরে লাদাখে ভারত-চিন সীমান্তে ক্রমেই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। গত সোমবার রাতে সেই উত্তেজনা সব সীমা অতিক্রম করে গিয়েছে। লাদাখ ইস্যুতে এবার বিরোধী শিবিরকে আলোচনায় ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।  আগামী ১৯ তারিখ লাদাখ সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদল বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। ভারচুয়াল ওই বৈঠকে সব রাজনৈতিক দলের সভাপতিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

 

 

১৯ জুন বিকেল ৫টায় এই বৈঠক হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভাপতিরা এই ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেবেন। অনুমান করা হচ্ছে চিনের বিরুদ্ধে সরকার কি কি পদক্ষেপ নিতে চলেছে সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে এই বৈঠকে। এই বিষয়ে রৈজনিতেক জলগুলির মতামতও চাওয়া হবে। 

চীন সীমান্তে প্রায় দেড়মাস ধরে যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতি। সাড়ে চার দশক পর সোমবার পূর্ব লাদাখের গালওয়ান সীমান্তে ভারতীয় জওয়ানদের রক্ত ঝরেছে। সোমবার রাতে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চিনা সেনার মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণ গিয়েছে ২০ জন সেনা কর্মীর। সংঘর্ষে একাধিক চিনা সেনাও নিহত হয়েছে বলে দাবি ভারতীয় সেনার। তবে এ প্রসঙ্গে এখনও নীরব বেজিং। 

৪৫ বছর পরে ভারত-চিন সীমান্ত সংঘর্ষে সেনা মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। গত দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে উত্তপ্ত ভারত-চিন সীমান্ত। গালওয়ান, প্যাংগং, নাকুলা সহ বেশ কয়েকটি অঞ্চল দিয়ে চিনা সেনা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে বলে জানায় সেনা। এমনকী গালওয়ান সহ নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে বেশ কয়েকটি জায়গায় চিনারা সমরাস্ত্র ও সেনা মজুত করে। ফলে ভারতও ওইসব এলাকায় সেনা সংখ্যা বাড়ায়। ফলে যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে সোমবার রাতে পূর্ব লাদাখের গালোয়ান ঘাঁটিতে চিনা সেনারা পিছু হটার প্রক্রিয়া চলাকালীন রীতিমত তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ভারত ও চিনা সেনা। এহেন পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন বারতীয় জওয়ান শহিদ হন। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবারই সেনাপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকেও গোটা বিষয়টি জানিয়েছেন রাজনাথ সিং। তারপরেই এই সর্বদল বৈঠকের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী। 

এর আগে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে  সরকারের কাছে বিবৃতি দাবি করেছিল কংগ্রেস। বুধবারও প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ট্যুইট করে প্রধানমন্ত্রীকে খোঁচা দেন। রাহুলের প্রশ্ন, এভাবে আর কতদিন নীরব থাকবেন মোদী ? একই সুরে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শিব সেনাও। বিরোধীদের চাপের মধ্যেই সরকার আগামী ১৯ জুন বিকেল ৫টায় লাদাখ ইস্যুতে সর্বদল বৈঠক ডাকল। বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে এবারের সর্বদল বৈঠকে সব রাজনৈতিক দলের সভাপতিদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। 

 

সাধারণত এই ধরনের সর্বদল বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের বা সংসদের দলনেতাদের ডাকা হয়।  এই ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণত প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের সামনে গোটা পরিস্থিতির উপর আলোকপাত করেন, তাঁদের সমর্থন প্রার্থনা করেন। এবং আগামী দিনের রণকৌশল নিয়ে পরামর্শ চান। ১৯ জুনের বৈঠকেও তেমনটাই হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।