ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের তদন্তের স্পেশাল তদন্তকারী দল গঠনের দাবি উঠেছে। সেই মর্মে আবেদনও জমা পড়েছে সুপ্রিম কোর্টে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকার, কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকেও একটি নোটিশ পাঠিয়েছে।  ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার তদন্তের আর্জি জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অ্যাডভোকেট হরি শঙ্কর জৈন। বিচারপতি বিনীত সরেনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে সেই মামলার শুনানির পরেই শীর্ষ আদলতের পক্ষ থেকে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে কেন্দ্র আর রাজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ক্ষতিপুরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট এখনও পর্যন্ত রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কোনও নোটিশ পাঠায়নি। কিন্তু আবেদন বলা হয়েছিল এই ঘটনায় হাত রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। 

অন্যদিকে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা আর রাজনৈতিক সন্ত্রাসের কারণে বাড়ি ছাড়া হওয়ার অভিযোগ জানিয়েছিলেন এই রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি দল বেশ কয়েকটি জায়গা পরিদর্শনের পর বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের একটি সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার জন্য ২ জুলাই পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে। যদিও মানবাধিকার কমিশনের দলের অভিযোগ সোমবার যাদবপুরেই তাঁরা যখন ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের জেরে বাড়ি ছাড়াদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলে সেই সময় দুষ্কৃতীদের একটি দল তাঁদের ওপর হামলা চালায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় তাঁরা উদ্ধার পান। যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী স্থানীয় মহিলাদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছিল।

ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস নিয়ে এই রাজ্যে রাজনৈতিক উদ্বেগ ক্রমশই বাড়েছে । রাজ্যের ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্ধেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ। ভোট সন্ত্রাস নিয়ে একাধিক বার রাজ্য সরকারকে নিশানা করেছেন রাজ্যপাত জগদীপ ধনখড়। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন তা মানতে নারাজ। পাশাপাশি রাজ্যের তরফ থেকেও সুপ্রিম কোর্টে জানান হয়েছে, বিধানসভা ভোটের পর রাজ্যে যেসব হিংসার ঘটনা ঘটেছে, তার সবকটিকেই ভোট পরবর্তী হিংসা হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। বিরোধীরা ভোট পরবর্তী হিংসার নাম করে রাজ্যকে যেভাবে কাঠগড়ায় তুলেছে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত-এমনটাই জানিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।  

তবে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে রীতিমত উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি যেমন ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস নিয়ে শাসকদলকে কাঠগড়ায় তুলেছে। পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের পরাজয় মেনে নিতে পারছে না বিজেপি। আর সেই ক্ষেত্রে হিংসার অভিযোগ তুলে রাজ্যের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।