করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব ভারতে সবচেয়ে  বেশি সমস্যায় ফেলেছে মহারাষ্ট্র রাজ্য-কে। ইতিমধ্যেই এই রাজ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে। এই রাজ্যে শনিবার সকাল পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩, ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এদিন মুম্বই থেকে যেমন নতুন ১০ জনের আক্রান্ত হওয়ার সন্ধান মিলেছে, তেমনই পুনে শহরের এক বছর চল্লিশের মহিলা-ও এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আর এই মহিলার আক্রান্ত হওয়া নিয়েই নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভারতে, তবে কি এই দেশেও পরবর্তী ধাপে পা রাখল কোভিড-১৯?

কোভিড-১৯ রোগ সংক্রমণ-কে বেশ কয়েকটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। যতদিন কোনও দেশে, বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের শরীরেই করোনাভাইরাসে উপস্থিতি সীমাবদ্ধ থাকছে ততদিন পর্যন্ত সেই দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রথম ধাপে আছে বলা হয়। আর বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের থেকে দেশে রোগ ছড়াতে শুরু করলে তখন করোনাভাইরাস দ্বিতীয় ধাপে পা রাখে। ভারতে শনিবার সকাল পর্যন্ত মো আক্রান্তের সংখ্যা ২৭১। এতদিন পর্যন্ত যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা সকলেই হয় বিদেশ থেকে ফিরেছেন, অথবা বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু, পুনের এই মহিলার ক্ষেত্রে বিষয়টা আলাদা।

বর্তমানে তিনি মুম্বইয়ের ভারতী হাসপাতালে ভেন্টিলেশন-এ আছেন। ওই মহিলা অসুস্থ হয়ে হাসপাততালে ভর্তি হওয়ার পর প্রথমে তিনি সোয়াইন ফ্লু অর্থাৎ এইচ১এন১ ভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। তাই তাঁর গলা থেকে লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি-তে সোয়াইন ফ্লু পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফল নেচিবাচক আসার পর করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয় এবং ফলাফল ইতিবাচক আসে।

এই আক্রান্ত মহিলার বিষয়টি ভারতের এখনও পর্যন্ত পাওয়া কোভিড-১৯ আক্রান্তদের থেকে আলাদা, কারণ এঁর বিদেশে ভ্রমণের কোনও ইতিহাস নেই। এমনকী বিদেশ থেকে ফিরেছেন এমন কোনও আত্মীয় পরিজনের সঙ্গে এর মধ্যে সাক্ষাতও করেননি। তাই, এই মহিলার ঘটনা ধরা পড়ার পর ভারতেও 'কমিউনিটি ট্রান্সমিশন' বা সম্প্রদায়গত সংক্রমণ অর্থাৎ বিদেশের সংযোগ ছাড়াই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া শুরু হয়ে গেল আশঙ্কা করা হচ্ছে। যাকে সংক্রমণের স্টেজ ৩ বা তৃতীয় ধাপ বলা হয়।

তবে গত ৩ মার্চ তিনি নবি মুম্বই-য়ে একটি বিয়েবাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে, বিদেশ থেকে আগত কোনও কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি বা তার সংস্পর্শে আসা কোনও ব্যক্তি এসেছিলেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলাশাসক নাভাল কিশোর রাম বলেছেন, এই মহিলা কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মুম্বই-এ যে যে ট্যাক্সিতে তিনি চড়েছিলেন তার বিশদ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

তাঁদের ধারণা তিনি অবশ্যই বিদেশে ভ্রমণ করেছেন এমন কোনও ব্যক্তির সংযোগে এসেছিলেন। এ জাতীয় মামলা মোকাবিলার জন্য তাঁদের কাছে পৃথক নির্দেশিকা রয়েছে। সেই অনুযায়ী এগোনো হচ্ছে। মুখে স্বীকার না করলেও পুনের এই মহিলার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় প্রশাসন যথেষ্ট উদ্বীগ্ন। শোনা যাচ্ছে এই ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিওর-এর বাইরে গিয়ে বিষয়টি মামলাটি তদন্তের জন্য উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।