নিজের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকলেন রাহুল গাঁধী। কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি। নিজে টুইট করেই এ দিন সেকথা জানিয়েছেন রাহুল। তবে রাহুল একই সঙ্গে জানিয়েছেন, বিজেপি এবং আরএসএসের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই জারি থাকবে। 

লোকসভা নির্বাচনে আবারও কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পরেই ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন রাহুল। কিন্তু তাঁর সেই দাবি মানতে চায়নি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি। শুধু তাই নয়, দেশজুড়ে কংগ্রেসের নেতা কর্মীরাও রাহুলকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানান। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরেননি রাহুল। 

এ দিন টুইটে নিজের পদত্যাগের খবর জানিয়ে রাহুল লিখেছেন, 'কংগ্রেসকে সেবা করতে পেরে আমি সম্মানিত। কংগ্রেসের আদর্শ এবং মূল্যবোধ দেশের  জীবনীশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। দেশবাসী এবং সংগঠনের কাছে আমি ঋণী হয়ে থাকব।'

নিজের পদত্যাগপত্রও এ দিন টুইট করেছেন রাহুল। মূলত লোকসভা ভোটে দলের বিপর্যয়ের দায় ঘাড়ে নিয়েই যে তিনি সরে যাচ্ছেন, তা পদত্যাগ পত্রে স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাহুল। তিনি চেয়েছেন, দ্রুত নতুন নেতাকে বেছে নিক কংগ্রেস। তবে দলের প্রয়োজনে সবরকমভাবে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাহুল। বিজেপি, আরএসএসের বিরুদ্ধে তাঁরা লড়াইও চলবে বলে জানিয়েছেন। রাহুল আর্জি জানিয়েছেন, আরও শক্তিশালী করা হোক কংগ্রেসকে।  পদত্যাগপত্রে রাহুল স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, কংগ্রেসের সংগঠনের আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। দলের প্রবীণ নেতারাই যে রাহুলের নিশানায় রয়েছেন, তাও স্পষ্ট। বিজেপি- আরএসএসের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই যে সফল হয়নি, তা চিঠিতে স্পষ্ট করেছেন রাহুল। 

রাহুলের ইস্তফার পরেই এবার নতুন সভাপতির খোঁজে নামতে হচ্ছে কংগ্রেসকে। বুধবারই দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডেকে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হতে পারে। আপাতত মতিলা ভোরাকে অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগকে ভোঁতা করতে পরিবরাতন্ত্রের অবসান চেয়েছেন রাহুল। তাই শেষ পর্যন্ত কাকে কংগ্রেস নতুন সভাপতি হিসেবে বাছে, সেটাই দেখার।