লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও সহজেই পাস হল নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল ২০১৯। লোকসভার মতোই এদিনও দীর্ঘ আলোচনার পর ভোটাভুটিতে সহজেই এই বিল পাস হয়। বিলের পক্ষে ভোট দেন ১২৫ জন সাংসদ এবং বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেন ১০৫ জন। লোকসভায় শাসকদলের সংখ্য়াগরীষ্ঠতা থাকলেও রাজ্যসভায় তা ছিল না। কিন্তু, বিজেডি, বোরোল্যান্ড মুক্তি মোর্চা-র মতো এনডিএ-র বাইরের বেশ কয়েকটি দলও এই বিলকে সমর্থন জানায়। ফলে এবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ সম্মতি দিলেই বিলটি আইনে পরিণত হবে।

এদিন বিল নিয়ে ভোটাভুটির আগে বিলটিকে রাজ্যসভার সিললেক্ট কমিটির কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানোর প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু ১১৩-৯২ ভোটে সেই প্রস্তাব খারিজ হয়ে যায়। তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল সংখ্যা গরীষ্ঠতা না থাকলেও তিন তালাক বিল, ৩৭০ ধারা বাতিলের বিল-এর পর আরও একটি বিতর্কিত বিলের ক্ষেত্রে রাজ্যসভায় ফের সাফল্য পেতে চলেছে মোদী সরকার। এবার রাষ্ট্রপতি বিলটিকে আইনে পরিণত করার প্রস্তাবে সায় দিলেই আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে আগত অমুসলিম শরণার্থীদের ভারতের নাগরিকত্ব পেতে আর বাধা থাকবে না। 

এই বিলটি দেশ জুড়ে বিতর্ক রয়েছে। লোকসভায় বিলটি পাস হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন একাংশের নাগরিকরা। উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলিতে, বিশেষ করে অসমে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। ত্রিপুরা ও অসমে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ। অসমের গুয়াহাটিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্ফু জারি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন - '৪৭-এর পর আরও এক স্বাধীনতার রাত, সদ্যজাত পাক হিন্দুর নাম হল 'নাগরিকতা'

আরও পড়ুন - যুগান্তকারী না অন্ধকারময়, দুই কক্ষেই সিএবি পাসের পরও জারি বিতর্ক

আরও পড়ুন - বন্ধ ইন্টারনেট, জারি কার্ফু, নামছে সেনা, সিএবি বিরোধী বিক্ষোভে রণক্ষেত্র অসম-ত্রিপুরা

আরও পড়ুন - ভারতমাতার জয়ধ্বনি, ঢাকঢোল থেকে মিষ্টিমুখ, নাগরিকত্বের উচ্ছ্বাস পাক হিন্দুদের

বিলটি নিয়ে মূল বিরোধিতার জায়গা হল, মুসলিম সম্প্রদায়কে নির্দিষ্ট করে এই বিল থেকে বাদ দেওয়া। এতে করে দেশের সংবিধানের মূল ভিত্তিতে আঘাত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম, এআইডিএম-কে সহ বেশশ কয়েকটি দল। এমনকী লোকসভায় বিলটিকে সমর্থন করার পরেও এদিন রাজ্যসবায় এই বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেয় সদ্য প্রাক্তন এনডিএ সঙ্গী শিবসেনাও। বিলটির ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের গন্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এক মার্কিন ফেডেরাল কমিশনও। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মতে এটা মোদী সরকারের হিন্দু রাষ্ট্র গঠন অ্যাজেন্ডার অংশ।

এদিন অবশ্য রাজ্যসভায় বিল নিয়ে আট ঘন্টা ব্যপী আলোচনার শুরুতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়ে দেন, এই বিল নিয়ে ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনও ভয় পাওয়ার কারণ নেই। নরেন্দ্র মোদীর আমলে ভারতের সব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষই সুরক্ষিত থাকবেন। তাঁরা এখন যেমন ভারতের নাগরিক রয়েছেন, তেমনই থাকবেন।