করোনাভাইরাস মোকিবাল করতে দেশে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দফার লকডাউন। বন্ধ অফিস-কাছারি, কল-কারখানা। আর লাগাতার এই লকডাউনের জেরে রীতিমত ধুকছে দেশের অর্থনীতি। ইতিমধ্যে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ২ শতাংশের নীচে নামার আভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা। এই পরিস্থিতিতে ফের সাংবাদিক বৈঠক করলেন ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। জানালেন, করোনাভাইরাসের  ফলে দেশে হওয়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতির  দিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে, মানবিকতার স্বার্থে যা যা প্রয়োজন তাই করবে আরবিআই।

করোনা আক্রান্ত বিশ্বে ভারত যেন 'দেবদূত', হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন পেল বিপন্ন ৫৫টি দেশ

করোনা যুদ্ধে অবশেষে মোদীর স্মরণে ইমরান, লকডাউনের মাঝেই পাকিস্তানিদের দেশে ফেরাল ভারত

ওষুধ দেওয়ার পুরস্কার পাচ্ছেন মোদী, ৫.৯ মিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্য সহায়তা পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প

লকডাউন চলাকালীন অধিকাংশ দিন মার্কিন ডলারের তুলনায় পড়েছে ভারতীয় টাকার দাম। করোনা আবহে দেশের ৭০ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে দেশের অর্থনীতি, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। ভারত সহ সারা বিশ্বের অর্থনীতিই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।এমন সঙ্কটময় মুহূর্তে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যাতে ভেঙে না পড়ে তার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ করছে কেন্দ্র। করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলায় বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা এদিন ঘোষণা করল আরবিআই-ও। তার মধ্যে যেমন রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য আর্থিক প্যাকেজ, রিভার্স রেপো রেট কমানোর মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। আরবিআই-এর গভর্নর জানান, করোনাভাইরাসের জেরে গোটা বিশ্বে যেখানে অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে  সেখানে জি-২০ দেশগুলোর মধ্যে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। 

 

ব্যাঙ্কে নগদের জোগান বাড়াতে শুক্রবার রিভার্স রেপোরেট ২৫ শতাংশ কমাল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। পরিবর্তিত রেভার্স রেপোরেটের হার দাঁড়াল ৩.৭৫। তবে অপরিবর্তিত থাকছে রেপো রেট। আরবিআই গভর্নর বলেন,   এই মুহূর্তে ভারতের সম্ভাব্য আর্থিক বৃদ্ধির হার ১.৯ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে বৃদ্ধির সম্ভাব্য হার ৭.৪ শতাংশ। তবে জি ২০ দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পরিস্থিতিই  সবচেয়ে ভাল, একথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। শক্তিকান্ত দাস বলেন, দেশের ব্যাঙ্কগুলোতে নগদের জোগান বাড়ানো হয়েছে।জিডিপির ৩.২ শতাংশ নগদের জোগান দেওয়া হয়েছে। 

 

 

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ক্ষুদ্র শিল্পের জন্যে আপাতত ৫০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করলেন আরবিআইয়ের গভর্নর। পরিস্থিতি অনুযায়ী এই প্যাকেজের পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হতে পারে বল জানান তিনি। আবাসন শিল্পে ১০ হাজার কোটি টাকার প্য়াকেজেরও ঘোষণা করেছেন শক্তিকান্ত দাস। ক্ষুদ্র আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যে ৫০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজও ঘোষণা করেন তিনি। তবে এলসিআর প্রয়োজনীয়তা যে ১০০ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ৮০ শতাংশে  নেমে এসেছে সেকথাও উল্লেখ করেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর।

 

 

লকডাউন পরিস্থিতি জারি হওয়ার পর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার সাংবাদিক সম্মেলন করলেন আরবিআইয়ের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি জানান,  করোনার জেরে দেশের আর্থিক পরিস্থিতির দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখছে রিজার্ভ ব্য়াঙ্ক। পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে যে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কর্মীরাও রেহাই পাননি সেকথাও জানান তিনি। বর্তমানে প্রায় ১৫০ আরবিআইয়ের কর্মী বিভিন্ন জায়গায় কোয়ারান্টাইন অবস্থায় রয়েছেন।