দিল্লির হাই ভিভিআইপি এলাকায় বিস্ফোরণ। যার ফলে ফের বিশ্বজুড়ে ফোকাসে ভারতবর্ষের রাজধানী। নাশকতার মানচিত্রে দিল্লি খুব একটা অপরিচিত নাম নয়। অতিতে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে দিল্লির বুকে। এমনকী, গত বছরের শেষভাগেও দিল্লি থেকে একাধিক জঙ্গি এবং জঙ্গিদের সাহায্যকারী স্লিপার সেলের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু, প্রতিবারই দিল্লি পুলিশ এবং এনআইএ দাবি করেছে যে এইসব গ্রেফতারির মধ্যে দিয়ে বড়সড় সন্ত্রাসের ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করা গিয়েছে। কিন্তু এমন সব দাবি-দাওয়ার মাঝে ২৯ জানুয়ারি দিল্লির বুকে যা ঘটল তাতে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আব্দুল কালাম রোড যেখানে সেই এলাকা দিল্লি লুটিয়ান বলে পরিচিত। আর নিরাপত্তার দিক থেকে এই এলাকা হাই ভিভিআইপি জোন। সেখানে আইইডি বিস্ফোরণ স্বাভাবিকভাবেই বেশকিছু প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। 
 

ইরজরায়েল সরকার যে এই বিস্ফোরণ নিয়ে চিন্তিত তা ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-কে পরিস্কার করে দেওয়া হয়েছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইতিমধ্যেই এই বিস্ফোরণ নিয়ে ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী-র সঙ্গে কথা বলেছেন এবং জানিয়েছেন যে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিস্ফোরণের তদন্ত করা হচ্ছে। এই বিস্ফোরণের পিছনে যারাই জড়িত থাকা তাদের খুঁজে বের করতে ভারত সরকার বদ্ধপরিকর বলেও জানিয়েছেন তিনি। আব্দুল কালাম রোডের যেখানে বিস্ফোরণ হয়েছে সেখান থেকে ইজরায়েল দূতাবাসের দূরত্ব মাত্র ১৫০ মিটার। এর আগে ২০১২ সালেও ইজরায়েল দূতাবাসের সামনে বিস্ফোরণ হয়েছিল। সেই বিস্ফোরণ ইরজরায়েল কূটনীতিকের গাড়ির চালকের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন কূটনীতিক। ইজরায়েলের অভিযোগ ছিল ইরান এই বিস্ফোরণের পিছনে ছিল। কিন্তু, ভারত সরকার ইজরায়েলের মতো এত কড়া অবস্থান নিয়ে ইরানের নাম নিতে পারেনি। কারণ, ইরানের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বের সম্পর্ক বহু দশকের শুধু নয় বহু বাণিজ্যিক চুক্তি রয়েছে ইরানের সঙ্গে। ইরানের সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্কের সুবাদে কূটনীতিক স্তরে পাকিস্তানকেও চাপে রাখাটা সহজ হয়। তবে, এখন পর্যন্ত পরিস্কার এই বিস্ফোরণে অতি সাধারণ একটি আইইডি। যার মাত্রা এমনকিছু ছিল না যে বহুদূর পর্যন্ত এর ব্যপকতা প্রসার পেতে পারে। 
 

এই মুহূর্তে বাংলা সফরে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সফরের মাঝেই তিনি পুরো বিষয়ের উপরে নজর রেখেছেন। ইতিমধ্যেই আইবি এবং এনআইএ কর্তাদের সঙ্গে বিস্ফোরণ নিয়ে কথা বলেছেন অমিত শাহ। সমস্ত ইনটেলিজেন্স ইনপুট-কে কোলাবরেট করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। যত দ্রুত সম্ভব বিস্ফোরণের পিছনের মোটিভ যাতে খুঁজে বের করা যায় তা নিয়েও কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

এদিকে, ইজরায়েল দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে কোনও ক্ষতি হয়নি। সমস্ত কর্মী সুরক্ষিত রয়েছেন। তবে দূতাবাসের সামনে ও বাইরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন দেশজুড়ে ইজরায়েলের সমস্ত মিশনেই কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 

দিল্লি বিস্ফোরণে জেরে দেশের সমস্ত বিমানবন্দরেই কড়া নিরাপত্তা বলবৎ করা হয়েছে। দিল্লির বিভিন্ন দষ্ট্রব্যমূলক স্থানকে কড়া নিরাপত্তায় মোড়া হয়েছে। বিস্ফোরণস্থলের কাছেই ২.২ কিমি দূরেই বিজয় চক। সেখানে চলছিল বিটিং দ্য রিট্রিট-এর অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফলে দ্রুত ওই এলাকায় হাই অ্যালার্টও জারি করা হয়েছিল।